রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলার সময় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রুশ কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে এই হামলা চালানো হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থনকারী দলগুলো অংশ নিচ্ছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে রুশ জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, শনিবার থেকে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১ হাজার ৬০০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সোবিয়ানিন জানান, কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগার এলাকায় পৌঁছায়। এ ছাড়া একটি ড্রোন আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। তবে মস্কো শহরের ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে তিনি জানান।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা মস্কোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পাশাপাশি তেল শোধনাগার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। তবে শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, ড্রোন হামলায় মস্কো তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুতিনের শাসনকে শক্তিশালী করার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, পৃথক দুটি ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ও এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ড্রোন ২১ তলা একটি আবাসিক ভবনে আঘাত করলে সেখানে আগুন ধরে যায়। পরে ভবনটি থেকে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলা আরও বেড়েছে। গত কয়েক মাসে রাশিয়া প্রায় ৩০০টি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলার বেশির ভাগই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও এর আশপাশের এলাকায় হয়েছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আগেও অভিযোগ করা হয়েছে, দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে রাশিয়া।