রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
Title :
সৌদির রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুথিরা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে তিতাসের আরও কয়েকটি কূপের গ্যাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতীমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত রাজধানীতে বৃষ্টির পরিমাণ ২০ মিলিমিটার,আজও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত, প্রত্যাখ্যান করলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু নরসিংদীর মনোহরদীতে ২৪ বছর পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ফিফা থেকে অর্থ পেতে পারে বাংলাদেশ, সদস্য দেশগুলোর জন্য নতুন প্রস্তাব কুষ্টিয়ার খোকসায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে তিতাসের আরও কয়েকটি কূপের গ্যাস

  • Update Time : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ Time View

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার দেশের অন্যতম বৃহৎ ও পুরোনো এই গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এদিন দুপুরে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯ নম্বর কূপ থেকেও শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আরও দুটি কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র সূত্র জানায়, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) পরিচালনাধীন এ গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উত্তোলনের কারণে মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে।

এ পরিস্থিতিতে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে নতুন গ্যাসের উৎসের সন্ধানে ২০১২ সালে জরিপ পরিচালনা করে বিজিএফসিএল। পরে ২০২০ সালে ওই জরিপের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ শেষ হয় চলতি বছরের ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। পরে ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়।

এদিকে, ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটিতে অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম চলছে। ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতার এ কূপটি খননেও প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কূপটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া একই লোকেশনে তিতাস ৩০ নম্বর কূপের খননকাজ আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতার এ কূপ খননে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার লক্ষ্যে খনন চলা এই কূপটি দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ। এরই মধ্যে কূপটির ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে।

তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না বলেন, ২৮ নম্বর কূপটি থেকে আপাতত দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। আর ২৯ নম্বর কূপ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ কূপটি ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় খনন করা হয়েছে। এটিতেও গ্যাসের ভালো চাপ পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া ৩০ নম্বর কূপটির খননও আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব বলেন, এই কূপটি দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ হওয়ার পাশাপাশি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপসম্পন্ন। আমরা আশা করছি বড় ধরনের কোনো জটিলতা না দেখা দিলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের প্রতিটি থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটা আমাদের চাহিদার তুলনায় বেশি না হলেও দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কাট করা যাবে।

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে সহায়তা করবে। ২৮ নম্বর কূপের গ্যাস মানুষের মাঝে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category