কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অপ্রতীমের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত সবাই তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানিয়েছিলেন, রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতীমের প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে গন্ধমতি এলাকায় তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
অপ্রতীমের মৃত্যুতে রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।
এদিকে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় নিজেদের ভাড়া বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। তার সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।