বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন
Title :
মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন করবে সরকার: আইনমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসায় কড়াকড়ি, বন্ধ হচ্ছে পরিবার নেওয়ার সুযোগ ভারতীয় প্রকৌশলীরা না আসায় চারদিন বন্ধ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ মাটি ও পরিবেশ রক্ষায় সার-কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু মক্কার পবিত্র নগরীতে ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা সৌদিসহ ৭ আরব দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের ক্ষমতায় আসার আগেই প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করার চিন্তা করেছেন: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গামাটির তিন জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে প্রকল্প অনুমোদন

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসায় কড়াকড়ি, বন্ধ হচ্ছে পরিবার নেওয়ার সুযোগ

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ Time View

অভিবাসনের হার কমাতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন নিয়মে অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেশটিতে যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে ‘ওয়ার্কিং হলিডে’ ভিসার নিয়মও কঠোর করা হচ্ছে। সরকারের আশা, এসব সংস্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটিতে বছরে নিট অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নেমে আসবে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে অভিবাসনের হার নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। সরকারের এই পদক্ষেপের আগে কট্টর ডানপন্থি ওয়ান নেশন পার্টি চলতি সপ্তাহে জানিয়েছিল, তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমাবে তারা। এতে অস্ট্রেলীয়রা কিছুটা ‘স্বস্তির সুযোগ’ পাবেন বলে দাবি করেছে দলটি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, ওয়ান নেশন পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সরকার এসব পরিবর্তন আনছে- এমন ধারণা ভুল। ‘অস্ট্রেলিয়া ফার্স্ট’ নীতির কথা বলা এই দলটির বিভিন্ন নীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির তুলনা করা হয়। সাংবাদিকদের বার্ক বলেন, ‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এই কাজটি করা হয়েছে- এমন সন্দেহ করা পুরোপুরি ভুল। বিষয়টি তা নয়।’

সরকারের নতুন সংস্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বছরে নিট অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। মহামারির আগের সময়ের মাত্রার কাছাকাছি নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসন ধারাবাহিকভাবে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগগুলোর মধ্যে রয়েছে।

নতুন নিয়মে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে চাওয়া ব্যাকপ্যাকারদের জন্য লটারির ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের ভিজিটর ভিসায় ‘আর থাকা যাবে না’ শর্ত যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভিসাধারীরা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে পার্টনার ভিসার মতো অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করে দেশটিতে থেকে যেতে পারবেন না।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেবল তখনই তাদের স্টুডেন্ট ভিসা নবায়ন করতে পারবেন, যখন তারা আগের চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে এগোবেন। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবেন। অধিকাংশ স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা আবেদন করার সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী ও সঙ্গীরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে পারেন। তবে তারা কত ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন, তা শিক্ষার্থীর পড়াশোনার কোর্সের ওপর নির্ভর করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার, যা ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান, অবদান রেখেছে। দেশটির রপ্তানি আয়ের দিক থেকে এটি চতুর্থ বৃহত্তম খাত। এরপরও অভিবাসন কমানোর ক্ষেত্রে মধ্য-বামপন্থি লেবার সরকারের মূল নজরে রয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

গত চার বছরে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং ন্যূনতম সঞ্চয়ের পরিমাণের শর্তও কঠোর করা হয়েছে।

এর আগে প্রায় দুই বছর কোভিড-১৯-এর কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সীমান্ত খুলে দেয়। এরপর দেশটিতে অভিবাসন দ্রুত বাড়তে থাকে। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও অস্থায়ী কর্মীদের।

তবে গত দুই বছরে এই সংখ্যা কমেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।

২০২৩ সালে দেশটিতে নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category