ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সঙ্গে সৌদি আরবসহ সাত আরব দেশের সেনাপ্রধান বৈঠক করেছেন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক কর্মকর্তারা।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস বৈঠকটির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে জার্মানির একটি নির্জন স্কি রিসোর্টে গোপনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৈঠকটির আয়োজন করেন। পরে অ্যাক্সিওসকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেন্টকমও।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর এ ধরনের এটি প্রথম বৈঠক। এর আগেও এসব দেশের কর্মকর্তারা একই ধরনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তবে অংশ নেওয়া আরব দেশগুলোর কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার রয়েছে। ইসরায়েলের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফের সামরিক অভিযান সম্পর্কে অংশ নেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
কুপার হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নৌ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও জানান। ইরান জলপথটি অবরোধ এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বৈঠকের বিষয়ে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, জার্মানিতে নির্ধারিত একটি সম্মেলনের সময় আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের আতিথ্য দিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, সেন্টকমের সহায়তায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে হুতি গোষ্ঠীর অগ্রগতি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে পারে ইসরায়েল।
ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত এবং সৌদি আরবে তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা চলছে। তবে ওই সূত্রের দাবি, ইসরায়েল সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে- এমন সম্ভাবনা কম।
বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।