জাকির হোসেন:
স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা, প্রসেসর, ডিসপ্লে ও স্টোরেজ নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, ব্যাটারি নিয়ে অনেকেরই ততটা মাথাব্যথা থাকে না। অথচ দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ফোনের ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তখন দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন চার্জে বসানো কিংবা ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পুরোনো ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাটারির স্বাস্থ্যও নিয়মিত নজরে রাখা প্রয়োজন।
বর্তমান স্মার্টফোনের বেশিরভাগেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কয়েক বছর পর এর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। কত দ্রুত এই পরিবর্তন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে চার্জ দেওয়ার অভ্যাস, ফোনের তাপমাত্রা, ব্যবহারের মাত্রা এবং চার্জিং সাইকেলের ওপর।
ফোনের চার্জ আগের তুলনায় দ্রুত শেষ হয়ে গেলে সেটি ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে, পর্যাপ্ত চার্জ থাকা সত্ত্বেও ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্বাভাবিক ব্যবহারের সময় অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক লক্ষণ হলো ব্যাটারি ফুলে যাওয়া। ফোনের পেছনের কভার বা স্ক্রিন যদি অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি ব্যাটারির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন অবস্থায় ফোন ব্যবহার বা নিজে থেকে ব্যাটারি খোলার চেষ্টা না করে দ্রুত অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করা নিরাপদ।
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করা বেশ সহজ। প্রথমে সেটিংসে প্রবেশ করে ব্যাটারি অপশনে যেতে হবে। এরপর ব্যাটারি হেলথ অ্যান্ড চার্জিং নির্বাচন করলে ম্যাক্সিমাম ক্যাপাসিটি দেখা যাবে।
এই শতাংশটি ব্যাটারি নতুন অবস্থায় যে পরিমাণ চার্জ ধরে রাখতে পারত, তার তুলনায় বর্তমানে কতটা সক্ষমতা রয়েছে, সে সম্পর্কে ধারণা দেয়। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে এই মান কমতে থাকলে বোঝা যায় ব্যাটারির ধারণক্ষমতাও আগের তুলনায় কমেছে।
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে এই তথ্য দেখার নিয়ম এক নয়। ফোনের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী অপশনের নাম এবং অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন কিছু মডেলে সেটিংসে প্রবেশ করে ব্যাটারি বিভাগেই সরাসরি ব্যাটারি হেলথ বা এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।
তবে শুধু একটি শতাংশ দেখেই ব্যাটারির পুরো অবস্থা বিচার করা ঠিক নয়। ফোন কত দ্রুত চার্জ হারাচ্ছে, চার্জের সময় অস্বাভাবিক গরম হচ্ছে কি না এবং ব্যবহারকালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি না এসব বিষয়ও একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে পেশাদারের সাহায্য নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।