শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ১৬২, নিখোঁজ ৪০৩ পর্যটক

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ Time View

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ পর্যটক। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালি পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নাওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় পাওয়া গেছে আরও ২৬ জনের মরদেহ। নিখোঁজদের তালিকায় ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

জঙ্গল সাফারির জন্য জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা চিতওয়ান বর্তমানে বন্যার পানিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। বুধবার তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন নেপালের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, নিখোঁজ ৪০৩ পর্যটকের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে চীনের তিব্বতেও ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা তিনজন।

চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ গিরং সীমান্ত। বুধবার দুই দেশের যৌথ সীমান্ত এলাকায় ভূমিধস শুরু হওয়ার পরপরই সেখানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়।

এই ঘটনায় শোক জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় আট টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, হিমবাহ ধসে বিপুল ধ্বংসাবশেষ ও পানির তীব্র প্রবাহের ফলেই ওই কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category