বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

ইসরাইলের জন্য বড় হুমকি তুরস্কের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র

  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ Time View

তুরস্কের নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈফুন ব্লক-৪’ নিয়ে ইসরাইলে কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এখন ইসরাইলের পুরো ভূখণ্ডই রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মিডলইস্ট মনিটর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জানায়, তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রকেটসান তৈরি করেছে ‘তৈফুন ব্লক-৪’। ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন প্রায় ৭ দশমিক ২ টন এবং দৈর্ঘ্য ১০ মিটার। আগের সংস্করণের তুলনায় এটি আকার ও ওজনে বড়।

ক্ষেপণাস্ত্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে এটি গতিপথ পরিবর্তন বা কৌশলগতভাবে ম্যানুভার করতে পারে। ফলে প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটিকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।

এটির লক্ষ্যভেদের সক্ষমতাও বেশ নিখুঁত বলে দাবি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু থেকে সর্বোচ্চ ৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে আঘাত হানতে পারে ক্ষেপণাস্ত্রটি। এর সম্ভাব্য গতি শব্দের গতির সাড়ে পাঁচ গুণের বেশি, অর্থাৎ মাক ৫ দশমিক ৫-এর ওপরে হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার কারণে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে ইসরাইলের পুরো ভূখণ্ডই এর তাত্ত্বিক পাল্লার মধ্যে পড়ে।

তবে ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা এখনই এই সক্ষমতাকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, ইসরাইলের বহুমাত্রিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যারো-২, অ্যারো-৩ ও ডেভিডস স্লিং—উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্যই তৈরি।

এ ছাড়া তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ। ‘তৈফুন’ পারমাণবিক অস্ত্র নয়; এটি প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। ফলে এর ধ্বংসক্ষমতাও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সীমিত।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও ‘তৈফুন ব্লক-৪’-এর ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বার্তা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তাই তুরস্কের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় নতুন একটি হিসাব যোগ করলেও, ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের সঙ্গে ইসরাইলের সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category