সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
Title :
‘জুলাই বিপ্লব ফরাসি বিপ্লবের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়’: রিজভী আইন কর্মকর্তা নিয়োগে অভিযোগের প্রমাণ চাই, তদন্তে আপত্তি নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল পবা-মোহনপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে: এমপি মিলন সরকারের সমালোচনা করা যাবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়: তথ্যমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে ৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত বেনজীর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিদেশি অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ১৪ মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১৬৬ ইরান সংঘাত দীর্ঘ হলে ইসরায়েলকে রক্ষা কঠিন হতে পারে: মার্কিন জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোনে সতর্ক করলেন আরাগচি

ইরান সংঘাত দীর্ঘ হলে ইসরায়েলকে রক্ষা কঠিন হতে পারে: মার্কিন জেনারেল

  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ Time View

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে একই সময়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বাহিনী ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত একটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন না করা হলে ভবিষ্যতে কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে নিজেদের বাহিনীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি বাইরের কোনো বিশ্লেষকের নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মূল্যায়ন। এতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগেরও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যে, একাধিক অঞ্চলে একযোগে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা বিদ্যমান সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসমৃদ্ধ ডেস্ট্রয়ারগুলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব যুদ্ধজাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে এসএম-৩ ও এসএম-৬ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম।

তবে একই যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলেও প্রয়োজন। প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলা, ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এগুলো ব্যবহৃত হয়। ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়োজিত করার অর্থ, অন্য কোনো সম্ভাব্য সংকটে সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না।

ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টিরও বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে শতাধিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরায়েল নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও সবচেয়ে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উদ্বেগের বিষয় শুধু ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নয়। আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সেগুলোর উৎপাদন ও মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category