ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন কার্যক্রমের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শোকাবহ পরিবেশে তার মরদেহ সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়।
সম্প্রতি ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। দাফন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে তার মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল প্রার্থনা কক্ষে নেওয়া হয়, যেখানে দুই দিন ধরে সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
প্রথম দিনেই ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হয়েছেন।
এদিকে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা তেহরানে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় দেশবাসীর প্রতি জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দল, মত, জাতি ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য ও ইসলামি ব্যবস্থার আদর্শের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে এই আয়োজনে অংশ নিতে হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ও রবিবার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থাকবে। সোমবার তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে মূল জানাজা ও শোকমিছিল। এরপর মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। পরে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে দাফন করা হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি