বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এবার অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র ও যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল এবং প্রণালির পশ্চিমাংশে পৃথক এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই জলপথে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশনা অমান্য করায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের উত্তর-পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে গানবোট থেকে গুলি ও রকেট চালিত গ্রেনেড (আরপিজি) ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নাবিকরা নিরাপদ আছেন এবং বড় ধরনের কোনো অগ্নিকাণ্ড বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন জানান, হামলার আগে আইআরজিসির একটি গানবোট খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালানো শুরু করে। তার দাবি, শুরুতে ওই এলাকায় চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, ওমানের পশ্চিমাংশে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে পানামার পতাকাবাহী আরেকটি কনটেইনার জাহাজেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে বড় কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির দাবি, জাহাজগুলোকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা তা মানেনি।
বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে এই রুটে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে তেহরান।
সূত্র: রয়টার্স