রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
Title :
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরায় চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়: গণপূর্ত মন্ত্রী ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের গণমিছিল প্রতিশোধ নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি-অবহেলায় বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আধিপত্য প্রতিষ্ঠা মানবকল্যাণ বয়ে আনতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবার শেষ বিদায়ে কেন নেই মোজতবা!

ইতালির যে শহরে ‘অভিবাসীদের কারণে’ ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধ

  • Update Time : শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৬২ Time View

ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক সমুদ্র উপকূলে প্রখর রোদের মধ্যে কংক্রিটের ছোট্ট একটি অংশে ক্রিকেট অনুশীলন করছিলেন একদল বাংলাদেশি। তারা মনফ্যালকোন শহরের অদূরে ট্রিয়েস্ট বিমানবন্দরের কাছে খেলছিলেন। কারণ, শহরের ভেতরে ক্রিকেট খেলা নিষিদ্ধ করেছেন সেখানকার মেয়র। কেউ সেখানে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করলে তাদের ১০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

দলটির অধিনায়ক মিয়া বাপ্পি বলেন, আমরা যদি মনফ্যালকোনের ভেতরে খেলতাম, তাহলে পুলিশ এর মধ্যেই আমাদের থামাতে চলে আসতো।তিনি জানান, ক্রিকেট খেলা বাঙালি অভিবাসীদের মধ্য খুব জনপ্রিয়। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন কিশোর স্থানীয় পার্কে খেলতে গিয়ে ‘ধরা’ পড়েছিল। তারা জানতো না যে, তাদের খেলাধুলার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। পরে পুলিশের টহল দল তাদের এই খেলা ভেঙে দেয় এবং এজন্য তাদের জরিমানাও করা হয়।

‘তারা বলে, ক্রিকেট ইতালির জন্য নয়। তবে যদি সত্যি বলি, এর কারণ আমরা বিদেশি’, বলেন বাপ্পি।

ক্রিকেট খেলায় এই নিষেধাজ্ঞা মূলত মনফ্যালকোনে অন্তর্নিহিত উত্তেজনার এক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। এই শহরের জাতিগত বৈশিষ্ট্য ইতালির অন্যান্য এলাকা থেকে বেশ আলাদা।

মাত্র ৩০ হাজার জনসংখ্যার মনফ্যালকোনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বিদেশি নাগরিক; তাদের আবার বেশিরভাগই বাংলাদেশি মুসলিম, যারা ১৯৯০র দশকের শেষের দিকে বিশালাকার ক্রুজ শিপ তৈরির কাজ করতে ইতালি আসতে শুরু করেন।

আর এই জাতিগত বৈশিষ্ট্যের বিষয়টিকেই মনফ্যালকোনের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের ওপর হুমকি হিসেবে দেখেন সেখানকার ডানপন্থি মেয়র আনা মারিয়া সিসিন্ট।

অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছেন তিনি এবং তার লক্ষ্য, এই শহরকে ‘সুরক্ষা দেওয়া’ ও খ্রিস্টান মূল্যবোধ রক্ষা করা।

মেয়র বলেন, আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। সব কিছু খারাপের দিকে যাচ্ছে।

শহরের টাউন স্কয়ারে থাকা যে বেঞ্চগুলোতে বাংলাদেশিরা বসতেন, সেগুলো এরই মধ্যে সরিয়ে দিয়েছেন মেয়র সিসিন্ট। সেইসঙ্গে, মুসলিম নারীরা সমুদ্র সৈকতে যে পোশাক পরেন, তারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

‘কম বেতনের ভাণ্ডার’

মিয়া বাপ্পি এবং তার সঙ্গের ক্রিকেটাররা ইতালিতে এসেছিলেন ইউরোপের বৃহত্তম শিপইয়ার্ড ফিনক্যান্টিয়েরিতে জাহাজ তৈরির কাজ করতে।

মেয়র সিসিন্ট এই কোম্পানিকে ‘কম বেতনের ভাণ্ডার’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। এর পেছনে তার যুক্তি হলো, কোম্পানিটি এখানে কাজ করার জন্য এত কম বেতন দেয় যে, কোনো ইতালীয় নাগরিক একই অর্থের বিনিময়ে কাজ করতে চাইবে না।

ইতালীয় আইনে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা রয়েছে এমন ধর্মগুলোর মধ্যে ইসলাম নেই। ফলে দেশটিতে মসজিদ নির্মাণ বেশ জটিল।ইতালিতে প্রায় ২০ লাখ মুসলিম বসবাস করলেও সারা দেশে মসজিদ রয়েছে মাত্র আটটি। সেই তুলনায় ফ্রান্সে মসজিদ রয়েছে দুই হাজারের বেশি।মনফ্যালকোনের বাংলাদেশিরা বলছেন, মেয়রের সিদ্ধান্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।১৯ বছর বয়সী মেহেলি বলেন, মেয়র মনে করেন, বাঙালিরা ইতালিকে ইসলামীকরণের চেষ্টা করছে। অথচ আমরা কেবল নিজেদের নিয়েই আছি।তিনি জানান, কেবল তার বাঙালি ঐতিহ্যের কারণে তাকে রাস্তায় হেনস্থা করা হয়েছে।‘আমি যত তাড়াতাড়ি পারি এই শহর ছেড়ে চলে যাবো।’

মিয়া বাপ্পি এ বছর তার ইতালীয় পাসপোর্ট পাবেন বলে আশা করছেন। কিন্তু তিনি নিশ্চিত নন, মনফ্যালকোনে আর বসবাস করবেন কি না।‘আমরা কোনো ঝামেলা করি না। আমরা ট্যাক্স দেই। কিন্তু তারা আমাদের এখানে চায় না,’ বলেছেন শিপইয়ার্ডের এই কর্মী।বাপ্পি আরও বলেন, তারা সবাই যদি আগামীকাল স্বদেশে ফিরে যান, তাহলে শিপইয়ার্ডের একটি জাহাজ তৈরি করতে সময় লাগবে পাঁচ বছর।

গ্রীষ্মে একটি আঞ্চলিক আদালত দুটি ইসলামিক কেন্দ্রের পক্ষে রায় দেন এবং সম্মিলিত প্রার্থনা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে টাউন কাউন্সিলের আদেশ বাতিল করেন।

তবে মনফ্যালকোনের মেয়র ইতালির বাইরেও ‘ইউরোপজুড়ে ইসলামীকরণের’ বিরুদ্ধে তার প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং শিগগির ব্রাসেলসেও তার এই বার্তা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category