দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে আগে থেকেই মাঠে নেমেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলীয় কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতিসহ সামাজিক নানান কর্মকাণ্ডেও ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তাদের কেউ কেউ এলাকায় গণসংযোগও শুরু করেছেন।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ার দৌড়ে এবারও পিছিয়ে নেই আইনজীবীরা। তাদেরও অনেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। আইনজীবী রাজনীতিকদের মধ্যে যেমন বর্ষীয়ানরা আছেন তেমনি আছে অনেক নতুন মুখও। তারা মনে করেন ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে দল এবারও তরুণদের প্রাধান্য দেবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হতে আগ্রহী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও অন্যান্য জেলার বারের সদস্য মিলিয়ে এরকম অন্তত অর্ধশত আইনজীবী রয়েছেন। তাদের অনেকে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে ‘সবুজ সংকেতও’পেয়েছেন। অনেকে নৌকার হাল হাতে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সম্পাদক, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতিসহ আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে। তারা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। এলাকার সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন আইনি সহায়তা। সঙ্গে দলের উচ্চ পর্যায়ে লবিং-তদবিরেও চোখ রাখছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী পেশাজীবী আইনজীবীদের অনেকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এরই মধ্যে তাদের নিজ নজি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চালাতে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভোটের সময় ঘনিয়ে এলেও বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অটল। তারা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছেন। তবে যে কোনো সময় হাওয়া বদলে যেতে পারে, এমন ভাবনা থেকে বিরোধীদলগুলোর অনেক নেতা ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হিসেবে অর্ধশত আইনজীবী নেতা বর্তমানে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তারা দলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রতিষ্ঠিত নেতারাও মাঠে রয়েছেন। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রচারণার মাঠে সরব সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত আইনজীবীরা। তাদের উপস্থিতি এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এবার নতুন করে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট মো. মোখলেসুর রহমান বাদল, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট আশরাফুল হক জর্জ, অ্যাডভোকেট মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ড. বশির আহমেদ, ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম আশরাফ ও ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
আলোচনায় আরও আছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা, অ্যাডভোকেট ড. মোহাম্মদ জগলুল কবির, মোহাম্মদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন, এনামুল কবির ইমন, এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওসার, ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট এস এম ফজলুল হক, অ্যাডভোকেট ফরহাদ আহমেদ, বিপ্লব হাসান পলাশ, অ্যাডভোকেট মো. সাফায়ত হোসেন সজীব, অ্যাডভোকেট কুহেলি কুদ্দুস মুক্তি, অ্যাডভোকেট সালমা হাই টুনি, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, অ্যাডভোকেট কায়সার আহমেদ, অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট জামিল হোসেন দুর্জয়।