বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
Title :
৪ হাজার কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ায় সাবেক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দিল চীন এরদোয়ানের নামে ট্রাম্পের কাছে নেতানিয়াহুর নালিশ ফিলিস্তিনিদের জন্য যার মায়া নেই, সে মানুষই নয়: মিশরের প্রধান কোচ এইচএসসির প্রশ্নপত্রে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ জামালপুরে আইনজীবীর চেম্বারে মিলল বোমা, গুলি ও মদের বোতল কাশিয়ানীতে স্ত্রী হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই স্বামী গ্রেপ্তার কক্সবাজারে থামছে না পাহাড়ধসের কান্না, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ বিএনপি সরকার জুলাই সনদ ও জনগণের রায়কে অস্বীকৃতি জানিয়েছে: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী

‘তীব্র গরমে’ মারা যাচ্ছে মুরগি

  • Update Time : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪
  • ৭২ Time View

প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে খামারের মুরগি। ডিম ও মাংসের উৎপাদনও কমেছে ১৫ থেকে ৩৫ ভাগ। ঘরের চালে ঝর্ণা, বাড়তি ফ্যানের ব্যবস্থা করেও মুরগি সুস্থ রাখতে পারছে না খামারিরা। এতে করে খামারিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

জানা যায়, দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দেও মাসব্যাপী চলছে তীব্র তাবদাহ। এই অসহনীয় গরমে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষ। ইতোমধ্যে হিট স্ট্রোকে গোয়ালন্দে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই তাবদাহ থেকে রেহাই পাচ্ছে না অন্যান্য জীব-জন্তুও।

হিট স্ট্রোকের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পোল্ট্রি খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পোল্ট্রি হ্যাচারীজের মালিক ও প্রান্তিক খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে ডিম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ও মুরগির মাংস উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে মুরগি ও ডিম সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন পোল্ট্রি হ্যাচারীজ ও ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাবদাহের করণে হিট স্ট্রোক করে প্রতিদিনই মড়ছে খামারের মুরগি। খামারিরা মুরগি সুস্থ রাখতে ঘরের চালে মোটরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর পাশাপাশি বাড়তি ফ্যানের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও তাপ সহনশীল করতে মুরগিকে খাওয়ানো হচ্ছে ভিটামিন সি জাতীয় নানা ওষুধ। এতে খরচ বেড়ে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন পোল্ট্রি খামারিরা। তারপরও রোদের তাপ বাড়ারের সাথে সাথে মুরগিও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এভাবে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মুরগি।

পোল্ট্রি শিল্পে ২য় বৃহত্তম জোন হিসেবে বিবেচনা করা হয় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দকে। এ উপজেলায় অন্তত অর্ধশত পোল্ট্রি হ্যাচারীজের পাশাপাশি অসংখ্য পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। নানা কারণে পোল্ট্রির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। ক্ষতির কারণে শত শত মুরগির খামারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে এই ব্যবসা মুখ থুবড়ে পরবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোনালী পোল্ট্রি হ্যাচারীজ লিমিটেডের পরিচালক মো. আইয়ুব রানা জানান, তীব্র গরমের কারণে তাদের বাচ্চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যে প্যারেন্টসের ১৮ সপ্তাহে উৎপাদনে যাওয়ার কথা, সেখানে ২৪ সপ্তাহেও উপাদানে যাচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহে এই মুরগির পেছনে খরচ হয় ৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেও মুরগির মৃত্যু বন্ধ করা যাচ্ছে না।

উপজেলার উজানচর নতুন পাড়া এলাকার খামারি মো. শাহিন শেখের খামারে সোনালী জাতের মুরগি আছে প্রায় আড়াই হাজারের মতো। হিট স্ট্রোকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি করে মুরগি মারা যাচ্ছে।

তিনি জানান, মুরগির জন্য আলাদাভাবে বাতাসের ব্যবস্থা ও সেডের চালের উপরে সারাদিন ঝর্ণা বসিয়ে পানি দেয়া হচ্ছে। তারপরও মুরগির মৃত্যু বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এই গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে যাচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ছিদ্দিক মিয়া বলেন, তীব্র এই তাবদাহে খামারের মুরগির ওজন ও ডিম উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ৪০ দিনে একটি ব্রয়লার মুরগি দুই কেজি ওজন ছাড়িয়ে যায়। এখন তা ১ কেজিও হচ্ছে না। আবার একই কারণে খামারিরা নতুন করে বাচ্চা তুলছেন না, এতে করে বাচ্চার দাম কমে গেছে। কিন্তু হ্যাচারীজ মালিকদের ব্যয় আরও বেড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ ব্যবসার সাথে জড়িতরা একেবারে পথে বসে যাবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে পোল্ট্রি খামারিদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এগুলো হলো, শেডে সঠিক বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, ধারণক্ষমতার মধ্যে কম মুরগি রাখা, মুরগির শরীরে পানি স্প্রে করা, সেডের চালে ভেজা পাটের ব্যাগ রাখা এবং নিয়মিত পানি ঢালা ও দুপুরে মুরগিকে খাবার না খাওয়ানো ইত্যাদি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category