মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
Title :

আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্য সরকারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত: আখতার হোসেন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। এ বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন কোনো নাটক মঞ্চস্থ না করার আহ্বান জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।

সভায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, সংস্কার কার্যক্রম, সাইবার সুরক্ষা আইন, নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, সরকার এমন পথে এগোচ্ছে, যেখানে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। সরকারের বক্তব্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য প্রচারের সুযোগও সীমিত করার চেষ্টা চলছে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার নিজেদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন করতে চাইছে। সরকারের দেওয়া তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য প্রচার হোক, তা তারা চায় না। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদী এবং উত্তর কোরিয়ার মডেলের মতো।

সরকার অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধের কথা বললেও সরকারের পক্ষ থেকে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারি বক্তব্যকে প্রশ্ন ছাড়াই সত্য হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সরকার যদি বলে তার লম্বা হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ আসতে দেরি হয় কিংবা মিরাজ শেখ গুম হননি, তাহলে কি সেটিকেই সত্য বলে ধরে নিতে হবে?

ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাথী আক্তারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান এনসিপির এই সংসদ সদস্য।

সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে, সংস্কারের নামে তাদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংস্কার কার্যক্রমের শুরুতেই গণভোটের রায় অস্বীকার করার মাধ্যমে সরকার সেই পথেই এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের যেসব জায়গায় বাধা ছিল, সেগুলো শুরু থেকেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গুম কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনকে নিজেদের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সরকার আইন প্রণয়ন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আখতার হোসেন বলেন, বাহিনীগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। সরকারের সঙ্গে ক্রসফায়ার নিয়ে ভেতরে ভেতরে কোনো আলোচনা না হলে আইজিপির মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইজিপির বক্তব্যকে রূপক অর্থে বলা হয়েছে—এমন ব্যাখ্যারও সমালোচনা করেন এনসিপির সদস্যসচিব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বক্তব্যটি রূপক অর্থে দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করলে সেটি কেমন রূপকথা হয়? আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে আবার কোনো নাটক মঞ্চস্থ করা হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন।

আখতার হোসেন বলেন, আইজিপি ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন, এটিকে সরকারের বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই তিনি এমন কথা বলেছেন বলে মনে করেন এনসিপির এই নেতা। এ বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখতে চায়নি। অন্যদিকে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলেও দলীয় লোকজন দিয়ে তা গঠন করতে চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির অবস্থান মোটেও ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, দলটি যে পথে এগোচ্ছে, তা আরেকটি স্বৈরাচারী পথ। এ ধরনের পরিস্থিতি আর হতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের প্রতি সাইবার সুরক্ষা আইনসংক্রান্ত সংশোধনী সংসদে উত্থাপন না করার আহ্বান জানান আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দেশের মঙ্গলের কোনো বিষয় নেই। বরং নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা গুরুতরভাবে খর্ব করার উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category