ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান হলেও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রাখার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রোববার আয়ারল্যান্ড সফরকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান হতে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে সেখানে অবস্থান করতে পারে এবং দেশটির তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গলফ খেলাও দেখেন ট্রাম্প। এ সময় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি বলেন, এ বছরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম খুব দ্রুত কমে আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। এরই মধ্যে সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার খবর সামনে আসায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে তিনি শুধু একটি ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান। তার ভাষায়, ‘ভালো নয়’ এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না। ইরান বারবার শান্তি আলোচনার জন্য যোগাযোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তেহরান এর আগে এমন দাবি অস্বীকার করেছে।
এর মধ্যেই ইরানে যুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন উপস্থিতির আরেকটি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার মতো কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে থেকে গিয়ে দেশটির তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে চলে আসব। তবে ভেনেজুয়েলার মতো সেখানে অবস্থান করে তেল নিজেদের দখলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি আলাদা।’
তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে যুদ্ধের ব্যয় বহুগুণে উঠে এসেছে।