চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও রপ্তানির সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে বেইজিংয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে চীন।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
তিনি জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশের জন্যও চীনের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
ব্যাংকিং খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। পাশাপাশি বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের বিষয়েও তারা আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহৎ রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে সম্মান দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি বলেন, সফর থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অর্জন হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সক্ষমতার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রায় করে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং লি কিয়াং নিজেই তাকে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান। এ সময় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে তোপধ্বনিও দেওয়া হয়। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার ও প্যারেড পরিদর্শন করেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২টি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের অংশ হিসেবে চীনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক কর্মসূচিও রয়েছে।
এ ছাড়া শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে একই দিন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।