বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
Title :
মমতার বাড়ি ও কার্যালয়ে সিআইডির অভিযান ইসলামী ব্যাংক, মির্জা ফখরুল ও জামায়াত-কেউ ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে: জামায়াত আমির বিটিভির বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব ৪৭ কোটি টাকা, অর্থের উৎস কী? একনেকে ২,২৬৬ কোটি টাকার ৮টি প্রকল্প অনুমোদন সীমিত সম্পদে সবার সুখ-দুঃখ বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ হামের অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে যুবকের মৃত্যু ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

একনেকে ২,২৬৬ কোটি টাকার ৮টি প্রকল্প অনুমোদন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৫ Time View

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) চলতি অর্থবছরের ১২তম সভায় মোট ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের আটটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে। অবশিষ্ট ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

এবারের একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান করতে এই প্রকল্পগুলো বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গণযোগাযোগ ও দেশের সুষম উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে এবারের প্রকল্পগুলো পানি সম্পদ, সড়ক পরিবহন, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। নিচে প্রধান প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

 ১. পানি সম্পদ ও কৃষি খাতের উন্নয়ন

দেশের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বরিশাল সেচ প্রকল্প (১ম পর্যায়) রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, পানির অপচয় রোধ করা এবং স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পুনর্বাসন কাজ দ্রুত শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

২. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক যোগাযোগ

যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকোরিয়া (ইদমনী) আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৭০) (কালাবিবির দিঘী থেকে ইদমনী পর্যন্ত) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটির অনুমোদন মিলেছে।

এই অঞ্চলের সড়কটি পর্যটন এবং অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দর এবং কুতুবদিয়া-মহেশখালী অঞ্চলের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে, কমবে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

 ৩. জনপ্রশাসন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সেবার মান বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর অধীনে দেশের ,৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে লিফট স্থাপন, করা হবে। সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো এবং জেলা পর্যায়ে সেবা নিতে আসা নাগরিক ও কর্মকর্তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা গতিশীল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 ৪. শিশু স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের সম্প্রসারণ

দেশের শিশু চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ধারণক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্য খাতের একটি বিশেষ বড় প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একনেক সভায় ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশজুড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিশুদের জটিল ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির পরিধি বাড়বে।

৫. প্রতিরক্ষা ও উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সেনানিবাসে চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধিত প্রকল্প পাস হয়েছে। ‘সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় একটি ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত পর্যায় অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিশ্বমানের ক্যানসার সনাক্তকরণ ও থেরাপির সুবিধা নিশ্চিত হবে, যা দেশের ক্যানসার চিকিৎসার ঘাটতি পূরণে বড় অবদান রাখবে।

 ৬. মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি সংশোধিত প্রকল্প একনেকের সবুজ সংকেত পেয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য পদ্ধতি (MEMIS) এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেটাবেস আরও শক্তিশালী হবে।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন দেশের, ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্থাপনের সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক ও ডিজিটাল শিক্ষার ছোঁয়া পৌঁছাবে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।

৭. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন ও টেকসই করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি বড় সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র (সাব-স্টেশন) এবং সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, করা। এর ফলে বিদ্যুৎ অপচয় বা সিস্টেম লস কমবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে ভোল্টেজ ওঠানামার সমস্যা দূর হয়ে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

একনেক সভাকে অবহিত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ছয়টি ছোট প্রকল্প ইতিমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মোট চিত্রও সভায় উপস্থাপন করা হয়:

১. পৌরসভা পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন: দেশের ৩০টি পৌরসভায় উন্নত পানি সরবরাহ এবং আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন।
২. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ও যানজট ব্যবস্থাপনা: বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ।
৩. ডাক সেবার সম্প্রসারণ: প্রান্তিক পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডাক সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন।
৪. এমইএস ট্রেনিং সেল অবকাঠামো: ঢাকা সেনানিবাসে মিলিটারী ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (এমইএস) এর প্রশিক্ষণ সেলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
৫. বাল্যবিয়ে রোধ প্রকল্প (২য় পর্যায়): সামাজিক সচেতনতা ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ।
৬. পাইকগাছা কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা: খুলনার পাইকগাছায় একটি আধুনিক কৃষি কলেজ স্থাপন, যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখবে।

আজকের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভায় সরকারের প্রায় পুরো ক্যাবিনেট ও শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এ.এন.এম. এহসানুল হক মিলন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সচিব ও কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত থেকে প্রকল্পগুলোর যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category