শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
Title :
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৫ দিনের আলটিমেটাম রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক

ছেলের বাধায় স্ত্রীর জানাজায় যেতে পারেননি বৃদ্ধ, পুলিশি সহায়তায় কবর জিয়ারত

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ১২১ Time View

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্ত্রীর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে পারেন ওই বৃদ্ধ।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপাশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৬) কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাবার প্রায় ১৪ একর জমি নিজের নামে লিখে নেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তার মেয়েরা। প্রথমে রংপুরে এবং পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হলে গত ৩ জুন রাতে তিনি মারা যান।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেননি বলেও স্বজনরা দাবি করেন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আব্দুল জলিলকে ঘর থেকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার ছেলে মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং স্ত্রীর দাফনে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category