আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে উপচেপড়া ভিড় শুরু হয়েছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট বিভিন্ন যানবাহনে পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটে আসছেন অসংখ্য মানুষ। পাটুরিয়া থেকে ফেরি ও লঞ্চে গাদাগাদি করে পদ্মা নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষজন।
তবে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আগের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়ায় লোকাল বাস, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে তাদের।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে আসা যাত্রী মহসিন মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে ছুটি পেয়েছি, তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে খুলনার পাইকগাছায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে ঈদ করব। পথে তেমন ভোগান্তি নেই, তবে হঠাৎ ঝড়ো বাতাস হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ফেরি বন্ধ থাকায় দেরি হয়ে গেছে।
স্বপ্না নামে একজন গার্মেন্টকর্মী জানান, বেশিরভাগ মানুষ ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাবে। তবে দৌলতদিয়া থেকে সব ধরনের যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাইক্রোবাস চালক বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ঈদের যাত্রী বহনের জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এসেছি। এখান থেকে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির সহায়তায় গাড়িতে যাত্রী তোলার সুযোগ পেয়েছি। তাকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যে কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।
লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারছেন। লোকজন পারাপারের জন্য এ নৌরুটে ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য ছোট-বড় ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। সাময়িক ঝড়ো হাওয়ার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঝড় থেমে যাওয়ার পর নিয়মিত ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।