দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও ব্যবহারকারীদের দক্ষতা, প্রবেশাধিকার ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এখনো বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশে। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান এখনো বড়। শহরে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও গ্রামে এ হার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে শহর-গ্রামের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের বড় অংশ এখনো মৌলিক কাজেই সীমাবদ্ধ। ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন যা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাথমিক দক্ষতা হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি দিক মোবাইল ফোন। দেশে মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মোবাইল ব্যবহার করলেও ব্যক্তিগত মালিকানা রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
অঞ্চলভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগে ঢাকা সবচেয়ে এগিয়ে, আর সবচেয়ে পিছিয়ে পঞ্চগড়। কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র ঢাকা শীর্ষে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সরকারি চাকরির তথ্য অনুসন্ধান করেন। খেলাধুলা বিষয়ক তথ্য খোঁজেন ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। তবে অনলাইন কেনাকাটার হার তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী এখনো ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে বড় হুমকি হিসেবে দেখেন।
অন্যদিকে, ইন্টারনেটের উচ্চ খরচও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ব্যয়বহুল হওয়ায় তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে আগ্রহী নন।
সব মিলিয়ে বিবিএসের জরিপে উঠে এসেছে এক দ্বৈত চিত্র ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও দক্ষতা উন্নয়ন, সাশ্রয়ী সেবা এবং সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।