ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনার পর বন্ধ করে দেওয়া একটি হোটেল কোনো ধরনের ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন ছাড়াই পুনরায় চালু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হোটেল মালিকের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাসান খানের নির্দেশেই হোটেলটি আবার চালু করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চেচুয়া এলাকায় অবস্থিত গ্লোবাল সুজ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের জন্য ইফতারে বিরিয়ানি সরবরাহ করা হয়। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেক শ্রমিক বমি, তীব্র পেটব্যথা ও মাথা ঘোরা অনুভব করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে (২০- ২৫) জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা নিয়ে কিছু শ্রমিক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর শ্রমিকদের ইফতারের খাবার সরবরাহকারী স্থানীয় খান হোটেল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ উপস্থিত হয়ে হোটেলটি বন্ধ করে দেয়। তবে ঘটনার মাত্র একদিন পরই হোটেলটি পুনরায় চালু হওয়ায় এলাকায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
হোটেল মালিক নূরুল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, “হবিরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বাসানের নির্দেশে হোটেলটি প্রথমে বন্ধ রেখেছিলাম। পরে তাঁর নির্দেশেই আবার হোটেল চালু করেছি।”
তবে এ বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক বলেন, ঘটনার রাতে পুলিশ গিয়ে হোটেলটি তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে কীভাবে হোটেলটি আবার চালু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যে হোটেলের খাবার খেয়ে এত শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন, সেই ঘটনার সঠিক তদন্ত বা খাবারের নমুনা ল্যাব পরীক্ষার আগেই কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু হলো। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান যাচাই না করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কেন তা বিতরণ করল—এ বিষয়েও জবাবদিহি থাকা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।
স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিকদের অসুস্থতার ঘটনাটি দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।