বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকীকে জানাজা শেষে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, মরহুমের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
জানাজা পূর্বে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ওমর ফারুক, সেক্রেটারি কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আইয়ুব ভূঁইয়া, আশরাফ আলী, শাহেদ চৌধুরী, এম আব্দুল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বখতিয়ার রানা, এম এ আজিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সেক্রেটারি মহিউদ্দিন প্রমুখ। পরে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
জানাজার পূর্বে বক্তব্যে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মরহুম রেজোয়ান সিদ্দিকীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, সজ্জন ও গুণী সাংবাদিক হিসেবে তিনি আজীবন শ্রদ্ধারপাত্র হয়ে থাকবেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার কিছু পর রাজধানীর কল্যাণপুরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেজোয়ান সিদ্দিকী। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বছর-দুয়েক আগে প্রবীণ এই সাংবাদিকের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যায়। কয়েক দিন আগে অবস্থার অবনতি হলে স্পেশালাইজড হসপিটালের আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল।
ড. রেজোয়ান হোসেন সিদ্দিকীর জন্ম ১৯৫৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাঈল জেলার এলাসিন গ্রামে। বাবা মরহুম আতিকুল হোসেন সিদ্দিকী। মা মরহুমা হাওয়া সিদ্দিকী। এসএসসি পাস করেন ১৯৬৮ সালে। বলতে গেলে তার পর থেকেই জীবন সংগ্রাম শুরু। ১৯৬৯ সালে করটিয়ার সাদত কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় তার পড়াশোনা আপাত বন্ধ হয়ে যায়। হুলিয়া নিয়ে তিনি চলে যান চট্টগ্রামে তার চাচা মোফাখখর হোসেন সিদ্দিকীর আশ্রয়ে। এরপর রেজোয়ান সিদ্দিকী চলে আসেন ঢাকায়। জীবন সংগ্রামের এক ভিন্ন মাত্রা শুরু হয় তখন থেকেই।
সাংবাদিকতা পেশায় ঢুকেছেন ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক বাংলায়। প্রুফ রিডার হিসেবে শুরু করেছিলেন। সেখানে শেষে ছিলেন সিনিয়র সহকারী সম্পাদক। একই সাথে ছিলেন ফিচার এডিটর, সিনে সম্পাদক এবং সাহিত্য সম্পাদক। খবরের কাগজে সাংবাদিকতার এমন কোনো পদ নেই, যে পদে কাজ করেননি তিনি। প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন চার বছর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯৭৩ সালে। ১৯৭২ সাল থেকেই ছোট গল্পকার ও কলাম লেখক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন রেজোয়ান সিদ্দিকী। লেখাপড়া করেন সাহিত্যে। কিন্তু এইচএসসি পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিজ্ঞানের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি পিএইচডি অর্জন করেন ১৯৯৫ সালে। হল্যান্ডের আইএসএস (ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল স্টাডিজ) থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন বিষয়ে তিনি অর্জন করেছেন স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা।
লেখক হিসেবে তার চরিত্র সব্যসাচীর। তিনি লিখেছেন, উপন্যাস, গল্প, নাটক, বিজ্ঞান, প্রকৃতি-পরিবেশ, ফিকশন, অনুবাদ, সংকলন-সব কিছু মিলে অর্ধশতাধিক বই।