রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে বন্ধু দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেবে ইরান

  • Update Time : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ Time View

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন সেবা মাশুল (সার্ভিস চার্জ) চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা দেশগুলো, বিশেষ করে চীনের মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলো, এই ব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধা বা ছাড় পাবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

শনিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানান চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি নতুন কাঠামো তৈরির কাজ করছে ইরান।

রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে সেবা মাশুল আদায় করা হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তবে ফাজলি স্পষ্ট করেন, যেসব দেশ কঠিন সময়ে ইরানের পাশে ছিল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বিবেচনা করা হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রাথমিক সমঝোতায় বাণিজ্যিক জাহাজকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্যে আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি বলেন, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। সে কারণে সেখানে প্রদত্ত সেবার জন্য মাশুল নেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেন, এটি প্রচলিত অর্থে কোনো ‘টোল’ নয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, জাহাজের গতিবিধির কার্যকর নজরদারি করা এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচলের কারণে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তা মোকাবিলা করা।

তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং সংকটকালে সহযোগিতা করেছে, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান এই প্রণালিতে কার্যত অবরোধ সৃষ্টি করলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বাধা তুলে নেয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category