শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

ঈদের দিনেও আল আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১২ Time View

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও পরবর্তী দিনগুলোতে আল আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। মসজিদ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র ‘মিডল ইস্ট আই’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আল আকসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ইসলামী ওয়াকফ কমিটিকে তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে মাসের শুরু থেকেই মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করছেন এবং অভিযোগ করছেন যে, নিরাপত্তার আড়ালে আল আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর প্রথমবার এই রমজান মাসে ফিলিস্তিনিরা আল আকসায় জুমার নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মসজিদ বন্ধ রাখার কারণে প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত কর্মী ঢুকলে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে মসজিদের প্রধান নামাজ হল ও ডোম অব দ্য রক-এর ভেতরে গোপন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমের পুরোনো শহর কার্যত অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে; শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। এর বাইরে সাধারণ জনজীবন চলছে, যা পরিস্থিতির বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্ট করে।

গত রোববার লাইলাতুল কদরের রাতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে আল আকসার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামাজ আদায় করেন।

আল আকসা মসজিদের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবু সোয়ে বলেন, “পুরোনো শহরের ভেতর ও বাইরে পরিস্থিতির এই তীব্র পার্থক্য বিস্ময়কর। যদি নিরাপত্তার সত্যিকারের প্রশ্ন থাকে, মসজিদের ভূগর্ভস্থ স্থানগুলো আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা যেত।”

ওয়াকফ কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাযবায সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক অজুহাতে আরোপিত বিধিনিষেধ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না, কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই আল আকসার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস কু’ লঙ্ঘন করে আসছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, এবং আল আকসার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর আহ্বান শোনা যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category