মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
Title :
বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল পর্তুগালের লিসবনে ডেইলি বাজারের যাত্রা শুরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএমপির মতবিনিময় ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ হরমুজ প্রণালিতে বন্ধু দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেবে ইরান

বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দেওয়া সম্ভব নয় : মমতা

  • Update Time : সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪
  • ৭৮ Time View

তিস্তার নদীর পানির হিস্যা বাংলাদেশকে দেওয়া সম্ভব নয় বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী। সোমবার মোদিকে লেখা এক চিঠিতে এ বিষয়টি জানান মমতা।

চিঠিতে মমতা উল্লেখ করেছেন, রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দেওয়া সম্ভব নয়।

গত ২২ জুন দুই দিনের ভারত সফর শেষে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই ছিল প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সাতটি নতুন ও তিনটি নবায়নকৃতসহ ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও একান্ত বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা-‌নরেন্দ্র মো‌দির বৈঠক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন আরও গভীর করার লক্ষ্যে আলোচনা করেছেন দুই সরকারপ্রধান। এই আলোচনায় উন্নয়ন অংশীদারত্ব, জ্বালানি, পানিসম্পদ, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মমতা বলেছেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরে গঙ্গা এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তুলে ধরে মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সব সময়ই আমি শ্রদ্ধাশীল এবং সব সময় তাদের সম্বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি। অতীতেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক ইস্যুতে সহযোগিতা করেছে। ভারত–বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়, ইন্দো–বাংলাদেশ রেললাইন এবং বাস সার্ভিস এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধির অর্জনের মাইলস্টোন হিসেব বিবেচিত।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘পানি অত্যন্ত মূল্যবান এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষের ওপর সরাসরি এবং মারাত্মক প্রভাব ফেলতে এমন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমরা ছাড় দিতে পারি না। এ ধরনের চুক্তির ফলে সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ওপর।’

মমতা লিখেছেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, ভারত সরকার ১৯৯৬ সালের ইন্দো বাংলাদেশ ফারাক্কা চুক্তি যেটি ২০২৬ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পানিবণ্টনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি নিশ্চই অবগত আছেন যে, ফারাক্কা দিয়ে যাওয়া পানি কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবন জীবিকা পরিচালনায় এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।’

মোদিকে লেখা চিঠিতে মমতা আরও লিখেছেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সিকিমে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি, বন উজার হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তিস্তার অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে ভারত সরকার বাংলাদেশে তিস্তা প্রকল্পের জন্য একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কথা প্রস্তাব করেছে। আমি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি, জল শক্তি মন্ত্রণালয় তিস্তার ভারত অংশের সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের সঙ্গে যদি পানিবণ্টন করা হয় তাহলে উত্তর বঙ্গের কয়েক লাভ মানুষ সেচের জন্য ব্যাপক পানি সংকটে ভুগবে। একই সঙ্গে পানের উৎস হিসেবেও তিস্তার পানির উপর উত্তরবঙ্গের মানুষ নির্ভরশীল। এ কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন সম্ভব নয়।’

মমতা লিখেছেন, ‘রাজ্য সরকারকে অন্তর্ভুক্ত না করে তিস্তার পানি বণ্টন এবং ফারাক্কা চুক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বার্থ কোনো ভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’

২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করে। তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিরোধীতার কারণে সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। খসড়া অনুযায়ী, খরার সময় ভারতের ৩৭ দশমিক ৫ আর বাংলাদেশের ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পানি পাওয়ার কথা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category