শিউলি ফুটেছে, সাদা কাশবনে সেজেছে প্রকৃতি। শুভ্র শরতের স্নিগ্ধতা চলছে। প্রকৃতির এমন মুগ্ধ নিপুণতা জানান দিচ্ছে, শারদীয় দুর্গাপূজা আর বেশিদিন দূরে নয়। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মন মাতানো কাশফুল আর শিউলি ফুলের মাতাল গন্ধে জগৎজননী মহামায়ার আগমন উপলক্ষ্যে উৎসব-আনন্দে মুখর হবে সকলেই।
আগামী পঞ্চমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শিশিরভেজা দূর্বাঘাসের ওপর ঝরেপড়া শিউলী ফুল কুড়ানোর সময় মাতৃবন্দনায় মিলিত হবেন মাতৃভক্তরা। ইতিমধ্যেই শিল্পীদের দক্ষ হাতে পূর্ণরূপে ফোটে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন অধিকাংশ প্রতিমা। সারা দেশের মতো সিলেটেও চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন, দেবী দুর্গা আসছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে।
ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি দিয়ে ভক্তরা অধীর আগ্রহে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে অপেক্ষা করছেন। ত্রিনয়নী দশভুজা দেবীর আগমনে সনাতন ধর্মের মানুষরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠবেন। পূজোর প্রস্তুতির আমেজ ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে।
মহাপঞ্চমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পূজার মূল দিনগুলো
মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার বর্ণিল সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজও চলছে। শিল্পীরা রঙ-তুলির বর্ণিল আঁচড় দিয়ে প্রতিমায় প্রাণ দিচ্ছেন। পূজার যাবতীয় উপকরণ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতী, ভজন-কীর্ত্তন, আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনসহ নানা প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সিলেট মহানগর ও জেলার পূজা সংখ্যা
সিলেট মহানগর
সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়কে দেবীপক্ষ বলা হয়। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যা হলো মহালয়া, যেদিন হিন্দুরা তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তর্পণ করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ বলেন,“সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, জেনারেটর ব্যবস্থা ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে পূজা সম্পূর্ণ নিরাপদে অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি, এবারও শারদ উৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে।”
এ বছর দেবীর আগমন হবে গজে এবং গমন হবে দোলায়। এর পাশাপাশি আগামী ৬ অক্টোবর শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও ২০ অক্টোবর শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।