ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও অনেকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় থানায় হামলা-ভাঙচুরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নিক্সন চৌধুরীকে এক নম্বর আসামি এবং হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়াকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গা থানায় এই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
একই দিনে উপজেলা কমপ্লেক্সেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শামছুল আজম বলেন, “থানায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অনেককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন ও ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, ভাঙ্গা উপজেলা কমপ্লেক্সে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, তবে প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের এক গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের অধীন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে ৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গাবাসী প্রথমে মহাসড়ক অবরোধ করে। পরবর্তীতে কয়েক দফায় আন্দোলন চলতে থাকে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের ফলে ভাঙ্গার হামিরদী ও ভাঙ্গা জংশন এবং রাজবাড়ীতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে দেড়শো জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এর প্রতিবাদে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গায় ব্যাপক সহিংসতা দেখা দেয়। হামলাকারীরা ভাঙ্গা থানা, উপজেলা কমপ্লেক্স, হাইওয়ে থানা এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।