ভোলায় ফুলকুঁড়ি আসরের সৃজনশীল উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাইন্ড ম্যারাথন’ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা প্রাণবন্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ‘শিক্ষা সেবায় আনন্দ, গড়বো নতুন দিগন্ত’—এই স্লোগানকে ধারণ করে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর ভোলা জেলা শাখা আয়োজন করেছে এই ভিন্নধর্মী মেধা যাচাই প্রতিযোগিতা।
ভোলা শহরের স্বনামধন্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই কর্মসূচি।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুর রব স্কুল এন্ড কলেজ, ভোলা টাউন কমিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বাংলা স্কুল), ভোলা কালেক্টর স্কুল, মাসুমা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আনাস বিন মালেক রা ইসলামী কমপ্লেক্স, হুসাইনিয়া প্রিপারেটরি মডেল মাদ্রাসা সহ আরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রায় ১৬০০ শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি পেয়েছে এক অনন্য মাত্রা।
৫০ নম্বরের এই প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত ছিল— সঠিক উত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, সাধারণ জ্ঞান, সাম্প্রতিক বিষয়াবলী, পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক প্রশ্ন এবং আইকিউ। প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে শেখা, চিন্তা ও বিশ্লেষণের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দিয়েছে এই উদ্যোগ।
ফুলকুঁড়ি আসর ভোলা জেলা শাখার পরিচালক মেহেদী হাসান সাব্বির ও সহকারী পরিচালক হাসানুল বান্না-এর নেতৃত্বে আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শাখা কর্মীপরিষদের নিবেদিতপ্রাণ তরুণ কর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে ফুলকুঁড়ি আসর ভোলা জেলা শাখার উপদেষ্টা সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “ভোলার শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশ ও মনন গঠনে এই ধরনের সৃজনশীল আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। আমরা চাই, প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিতভাবে হোক।”
বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। সবুজ প্রান্তর, নদী-সাগরের মেলবন্ধন ও নীরব প্রকৃতি শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন দেখায় নতুন দিগন্তের। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশেই ফুলকুঁড়ি আসরের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে নতুন দিশা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতে— ‘মাইন্ড ম্যারাথন’ শিশুদের শুধু পড়াশোনায় আগ্রহী করছে না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস, যুক্তিবোধ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।