অমর একুশে বইমেলার ২৩তম দিন আজ। এ দিন নতুন ১৯৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে- গল্প ৩৬, উপন্যাস ২৪, প্রবন্ধ ১৩, কবিতা ৬৯, গবেষণা ৬, ছড়া ৮, শিশুসাহিত্য ৫, জীবনী ৩, চিকিৎসা/ স্বাস্থ্য ২, রাজনীতি ৩, ইতিহাস ১, মুক্তিযুদ্ধ ৭, নাটক ২, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ২, ধর্মীয় ১, রম্য – ২, সায়েন্স ফিকশন ২, অন্যান্য ৭।
অমর একুশে বইমেলার ২৩তম দিনে মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মামুন হুসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ওয়াসি আহমেদ এবং জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
প্রাবন্ধিক বলেন, আমাদের কালের এক আশ্চর্য-নির্লোভ মানুষ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস চেনা বাস্তবতাকে প্রসারিত করেন প্রচলিত দৃষ্টি ও বুদ্ধিগ্রাহ্যতার ওপারে। আমাদের আদিকল্প, ইন্দ্রজাল, উপকথা তিনি চিনেছিলেন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে। মধ্যবিত্তের ধসে পড়া সেতুর খোলনলচে দেখতে গিয়ে তিনি আঘাত করেছিলেন মধ্যবিত্তের গোপন পঙ্কিলময় শালীনতা, শুদ্ধতা ও নৈতিকতাকে। ইলিয়াসের মিথ পুরাণগর্ভ থেকে নয়, বরং বরেন্দ্রভূমির দূর অতীতের ইতিহাস থেকে তৈরি হয়। অর্থাৎ ইলিয়াসের ক্ষেত্রে মিথের জন্মভূমি যত না পুরাণের ঐতিহ্য, তার থেকেও বেশি মানুষের জীবনযাপনের অতীত ইতিহাস।
আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত শক্তিমান লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যদর্শন, সংশয় দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজস্ব চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানতে হলে তাঁর সাহিত্য পাঠ একান্ত জরুরি। তিনি ছিলেন সংবেদনশীল ও অনুসন্ধিৎসু একজন লেখক। সমাজের নানা দিকে তাঁর সাহিত্যিক দৃষ্টি ছিল প্রসারিত। তিনি তাঁর চিন্তাশীলতার মধ্য দিয়েই একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বোধ ছিল শানিত, ভাষা ঝরঝরে এবং চিন্তা ছিল স্বচ্ছ। নিরন্তর নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই তাঁর সাহিত্য অনন্য উচ্চতা লাভ করেছে। নবীন পাঠকদের আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যপাঠে উৎসাহিত করতে হবে।
আজ লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক, পর্যটক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, কথাসাহিত্যিক নভেরা হোসেন, কবি কুশল ভৌমিক ও শিশুসাহিত্যিক আহমেদ জসিম।
বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চের আয়োজন : এই মঞ্চে আজ বিকালে পারস্য সাহিত্যের অনুবাদক ও লেখক অধ্যাপক শাকির সবুর রচিত সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা এবং ফারসি থেকে অনূদিত বুজুর্গে আলাভির তার চোখগুলো বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।