শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
Title :
৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, মাগুরায় জিএম বরখাস্ত; মন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ মিরপুরের সংঘর্ষে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু আহত চীনা প্রকৌশলীকে দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনতার মুখোমুখি মসিক প্রশাসক, উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সন্দেহ থেকে মামলা, এমপি নজরুলের সঙ্গে আপস মরিয়মের বাবার মৌলভীবাজারে কলেজ ছাত্র নাঈম হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ‘কার্ড দেব, চাকরি দেব, বিনিময়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে’ চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে দিনভর নানা কর্মসূচি

টাঙ্গাইলে ভাঙন আতঙ্কে নদী পাড়ের ৭ গ্রামের মানুষ

  • Update Time : শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪
  • ৯৩ Time View

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের সব নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে জেলার দুই উপজেলার ৭টি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রমত্তা যমুনার আগ্রাসী রূপে ওই সাতটি গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

শুক্রবার বিভিন্ন নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার থেকে ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি ইউনিয়নের চরপৌলি গ্রামের অরক্ষিত ১৬২৫ মিটার এলাকা এবং ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এলাকার ভাঙন অভিজ্ঞরা জানায়, কয়েকদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। ক্রমাগত পানি বাড়ার কারণে যমুনা যৌবনা হয়ে উন্মত্তরূপ ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে।

বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনা আগ্রাসী হলে কারো কিছু করার থাকবে না মুহূর্তেই বাড়িঘর-গাছপালাসহ কাঁচা বা পাকা স্থাপনা গ্রাস করে ফেলবে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানায়, যমুনার ভাঙনে ইতোমধ্যে চরপৌলি গ্রামের অরক্ষিত অর্থাৎ দুইপাশে বাঁধের মাঝখানে খোলা ১৬২৫ মিটার এলাকার ৩৫টি পরিবারের বাড়িঘর ও স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনে স্থানীয় ৩৫ পরিবারের সবাই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে কেউ অন্যের জমিতে ও বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন কবলিতরা সরকারি-বেসরকারি সাহায্য নয়- তারা যমুনার ওই অংশে বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানায়।

অপরদিকে, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে নদীতীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরের ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল তাও ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন পার করছে নদীতীরের শ’ শ’ পরিবার। ইতোমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনার বামতীরে কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ী পাথরঘাট থেকে আলীপুর পর্যন্ত ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নিউ ধলেশ্বরী নদীর অফটেক (মুখ) বাঁধাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, নাগরপুর উপজেলা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলির দক্ষিণ পর্যন্ত জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। মাঝখানে চরপৌলি গ্রামের ১৬২৫ মিটার অংশ অরক্ষিত রয়েছে। বাঁধ না থাকায় ওই অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদী তীরের ভাঙন আতঙ্কে থাকা মানুষরা জানায়, গত বর্ষা মৌসুমে ভাঙনরোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্নস্থানে নামেমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এবার সেগুলোও ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা জানায়, গত বছর বন্যায় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা গাইড বাঁধের জিওব্যাগ বালু ব্যবসায়ীদের আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধা-পাকা সড়ক, গাইড বাঁধ, বসতবাড়ি, মসজিদ-মন্দির, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

পাটিতাপাড়ার ওমেছা বেগম, সুফিয়া আক্তার ও কোরবান আলী জানান, যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ জানান, কিছুদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হবে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, যমুনার ভূঞাপুর অংশে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনও’র মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের জন্য একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় ইকোনমিক জোনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ইকোনমিক জোনের কাজ শুরু করা হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হয়ে যাবে।

তিনি জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলি গ্রামের উত্তর এবং দক্ষিণের মাঝে ১৬২৫ মিটার অংশ অরক্ষিত রয়েছে। ওই স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমে বাঁধের কাজ ধরা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category