ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সব রকমের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম ছাত্রসংসদের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় তারা।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকেই ছাত্রসংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও রোডম্যাপ ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। অভ্যুত্থান পরবর্তী একবছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা না থাকায় সম্প্রতি নির্বাচনের জোরালো দাবিতে সরব হয়ে ওঠে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, ‘ছাত্রদল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতকে শ্রদ্ধার সহিত মূল্যায়ন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তীতে ছাত্রদল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব অনুযায়ী চলার যথাযথ চেষ্টা করে যাচ্ছে যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা অবশ্যই ছাত্র সংসদ ও একটি যুগোপযোগী গঠনতন্ত্র চাই এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদ কবির বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে জুলাই বিপ্লবের একবছর পূর্ণ হলেও এখনও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক চর্চার প্লাটফর্ম ‘ছাত্র সংসদ’ গড়ে ওঠেনি; যেখানে শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারবে, নেতৃত্বের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে, নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে পারবে। আমাদের সমসাময়িক সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও জাককানইবিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের তেমন কোন অগ্রগতি এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ চাইবে না এমন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নগণ্য। সুতরাং, ছাত্রসংসদ ইস্যুতে প্রশাসনের চুপ থাকার সুযোগ নেই। তাই অতিসত্বর ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাই।’
আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জেনাস ভৌমিক বলেন, ‘প্রশাসনকে অবিলম্বে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। প্রশাসনিক স্বৈরাচার নির্মূল করে, একক ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ছাত্রসংসদ প্রয়োজন। ছাত্রসংসদ হলে শিক্ষার্থীদের হলের সিট সুষ্ঠু বণ্টন হবে, ডাইনিংয়ের খাবারের দাম কমবে, শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি কমবে, নাম্বার টেম্পারিং বন্ধ হবে, সর্বোপরি শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-অনিয়ম বন্ধ হবে। ছাত্রসংসদ না থাকায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্বৈরাচার কায়েম হয়েছে অপরদিকে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। সিন্ডিকেটে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকে না। যোগ্য ছাত্র নেতৃত্ব গড়ে না উঠে লেজুড়বৃত্তিক নেতৃত্ব গড়ে উঠে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচন দিতে হবে।’
ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু বর্তমান অর্ডিন্যান্সে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই, একারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রসংসদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি ও গঠন করা হয়েছে। রোডম্যাপটি তৈরি হয়ে গেলে নির্বাচনের পরিধি, সুনির্দিষ্ট কাঠামো, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া এবং সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবো। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’