দীর্ঘ বিরতির পর নিজের জন্মমাটি বগুড়ায় পা রেখে এক অভাবনীয় আবেগী ও রাজনৈতিক আবহের সৃষ্টি করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেলে বগুড়া পটুয়াখালী মহাসড়কের মোকামতলা বন্দরে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়ার মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেবে যে, এ মাটি কেবল বিএনপির ঘাঁটি নয়, বরং এটি দলটির এক অভেদ্য ও শক্ত দুর্গ।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলমের সমর্থনে আয়োজিত এ পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন।
তিনি বলেন, বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি, এটি সারা দেশের মানুষ জানে। তবে এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বগুড়ার মানুষ এবার প্রমাণ করে দেখাবে যে, এ মাটি বিএনপির শুধু ঘাঁটি নয়, বরং একটি অত্যন্ত শক্ত ঘাঁটি, যা ভাঙার সাধ্য কারো নেই।
তিনি অতীতের উন্নয়নের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখনই ধানের শীষ সরকার পরিচালনা করেছে, তখনই বগুড়াসহ সারা দেশের উন্নয়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে, যা সম্পন্ন করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজেকে বগুড়ার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান। মহান আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, তবে আমি যেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি। আপনাদের দোয়া ও সমর্থনই আমার পথ চলার শক্তি।
পথসভা মঞ্চে এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন, ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মীর শাহে আলমসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মোকামতলার পথসভার আগে তারেক রহমান বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে হিসেবে তিনি নিজেই এ মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর সে মসজিদে নামাজ আদায় শেষে তিনি মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, এ মসজিদটি বগুড়ার মানুষের গর্বের প্রতীক হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দুঃখের বিষয়, যেভাবে আমরা চেয়েছিলাম সেভাবে এর কাজ শেষ হতে দেওয়া হয়নি। যদি ভবিষ্যতে সুযোগ আসে, তবে মসজিদটিকে এমনভাবে সুন্দর ও আধুনিক করে গড়ে তোলা হবে, যেন এটি কেবল ইবাদতখানা নয়, বরং বগুড়াবাসীর গর্বের স্থানে পরিণত হয়।
জুমার নামাজ শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের বিশাল গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে তিনি ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত সুফি সাধক হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন এবং কিছুক্ষণ মোনাজাত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি পুনরায় রংপুরের পথে যাত্রা করেন।
তার সফরের পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং রংপুর ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ প্রদান।
বগুড়ায় তারেক রহমানের এ সফর কেবল একটি নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং এটি ছিল এক ধরনের শেকড়ের টানে ফিরে আসা। তার উপস্থিতি এবং বগুড়ার সন্তান হিসেবে দেওয়া বক্তব্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়ার প্রতিটি আসনে ধানের শীষের পালে হাওয়া লাগাতে তারেক রহমানের এ সফর এক নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে।