বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

নতুন অভিযাত্রায় বাংলাদেশ তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিলেন ২৫ পূর্ণমন্ত্রী

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ Time View

এক নতুন ভোরের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে গঠিত হলো দেশের নতুন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বে আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টায় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরই মঞ্চে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত ৫০ সদস্যের বিশাল মন্ত্রিসভার প্রথম ধাপে আজ ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী শপথ নেন। বাকি ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যান্য সদস্যদের শপথও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি। বিশেষ করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই শপথ অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেন।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় মূলত বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দলটির মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতারাই ঠাঁই পেয়েছেন এই তালিকায়। তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তাঁর সঙ্গে আরও রয়েছেন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া প্রবীণ নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বীর বিক্রম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদও শপথ নিয়েছেন।

বিভাগীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন কুমিল্লার অভিজ্ঞ নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সিলেটের উন্নয়নের কাণ্ডারি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী, বরিশালের জহির উদ্দিন স্বপন, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু এবং উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু।

তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় কেবল রাজনীতিকরাই নন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে তাঁর অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন স্বরূপ বিশেষজ্ঞ কোটায় পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও বিশেষজ্ঞ কোটায় মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় যেমন প্রবীণরা রয়েছেন, তেমনি মধ্যম সারির একঝাঁক নেতাকে পূর্ণমন্ত্রী করে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চাঁদপুরের আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে আফরোজা খানম রিতার অন্তর্ভুক্তি মন্ত্রিসভাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

এ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং শেখ রবিউল আলমও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পূর্ণমন্ত্রীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

বিকেল ৫টায় শপথ গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা জাতির উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভার প্রধান কাজ হবে গত দেড় দশকের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারই হবে নতুন মন্ত্রীদের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদীয় দল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো সদস্য সরকারি শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট গ্রহণ করবেন না। এই ত্যাগের মানসিকতা নিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা তাদের যাত্রা শুরু করল। আজ রাত থেকেই বঙ্গভবন ও গণভবনে প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মব্যস্ততা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category