বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি এখন দুই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার একটি মুনাফিকি আর একটি সুবিধাবাদ। গ্রামবাংলায় একটি গল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এক মা তার ছেলে আর মেয়ের জামাতা বিষয়ে বলছে-আমার ছেলেটা খারাপ কারণ সে শাশুড়ির কথা শোনে, মেয়েটা ভালো কারণ সে আমার কথা শোনে।’ বিএনপির এই সুবিধাবাদের রোগ হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করে তা তাদের কাছে খুব পছন্দনীয়। আর যে অধ্যাদেশগুলো জাতির কাছে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, তা অপছন্দনীয়। আমরা মনে করি, বিএনপি যে রাজনীতি করছে সেটা সুবিধাবাদের রাজনীতি।
শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের জনরায় প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদ এবং গণভোটের সিদ্ধান্তের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন প্রমুখ।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় দেখেছি, বিএনপি সারা দেশে তলে তলে না-এর পক্ষে প্রচার করেছে। জনরোষের ভয়ে প্রকাশ্যে বলার সৎ সাহস তাদের ছিল না। এজন্য লাখো মানুষের সামনে বিএনপি প্রধান জনাব তারেক রহমান হ্যাঁ-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রকাশ্যে এক কথা, ভেতরে অন্য কথাকে কী বলে? মুনাফিকি।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি দুই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত-মুনাফিকি আর সুবিধাবাদ। জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত নতুন বাংলাদেশে মুনাফিকির রাজনীতি আর সুবিধাবাদের রাজনীতি চলবে না। তিনি আরও বলেন, এ দেশের জনগণকে যদি হাইকোর্ট দেখান, রাজপথে জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। ৭০ পার্সেন্ট জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। অতীতে আপনাদের অপকর্মের কারণে দেশের দেশপ্রেমিক দলগুলোকে খেসারত দিতে হয়েছে। ২৮ আগস্ট কী পরিমাণ মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে, ঢাকার রাজপথ সাক্ষী। আমরা ২৫ বছর ভুগেছি। তাই নতুন করে আর ভুল করতে দেব না। জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। অন্যথায় রাজপথ ও সংসদে মোকাবেলা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি সংবিধান সংশোধনের জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম, নাকি সংস্কারের জন্য? বিএনপি যে প্রতারণার রাজনীতি শুরু করেছে, তার মাসুল তাদেরকে দিতে হবে। জনগণের রায়কে প্রত্যাখ্যান করলে, জনগণও তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।
পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ১১ দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন হয়ে বিজয়নগর ও নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইল গিয়ে শেষ হয়। এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট ও সংস্কার নিয়ে নানা স্লোগান দেন তারা।