আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই বরিশাল-৫ ও বাকেরগঞ্জ-৬ এ দুই সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম শায়খে চরমোনাই একাই ছুটছেন ভোটারদের কাছে।
প্রতিদিনই ভোটারের কাছে তিনি ইসলামের পক্ষে একমাত্র বাক্স হাতপাখায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছেন।
বরিশাল-৫ ও বাকেরগঞ্জ-৬ এ দুই আসনেই তার সমর্থকদের প্রচারণায় জমজমাট হয়ে উঠছে নির্বাচনী ভোটের মাঠ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম উন্নয়নের বাণী নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
প্রচারণার মূল টার্গেটে রয়েছে সাধারণ ভোটাররা। এসব আসনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভোটারের কাছে ‘ইসলামের পক্ষে একক মার্কা’ হিসেবে হাতপাখাকে উপস্থাপন করছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর টাউন হল চত্বরে, এর আগে বেলতলা খেয়া ঘাট এলাকা, আমানতগঞ্জ, আমতলার মোড় এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে সব জায়গায় গিয়েই তিনি প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন। তবে বরিশাল সদর আসনের নির্বাচনী প্রচারণা প্রতিবারের চেয়ে এবার একটু আলাদা। কিছুদিন আগে দেখা গেছে জামায়াতের ভোট প্রচারণা কৌশলে অবলম্বন করে নারী কর্মীদের দ্বারা প্রচারণা চালাতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও বরিশাল-৫ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফয়জুল করিমকে সমর্থন জানিয়েছে জামায়াত ইসলামী। ভোটের মাঠ থেকে বরিশাল-৫ আসন থেকে তাদের প্রার্থীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর ভোটের মাঠে নারীদের প্রচারণায় দেখা না গেলেও হঠাৎ কয়েক দিন ধরে ভোটের মাঠে কিছু নারী ইসলামি শরিয়ত মেনে হাত-মুখ ঢেকে পর্দা মেনে হাতপাখার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নারী দ্বারা নারীদের ইসলামি দল হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ফলে নারীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে তাদের ইসলামের পক্ষে ভোট। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার থেকে শুরু করে বরিশালকে একটি উন্নত শহরে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীর নারী সমর্থকরা।
বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় নারী কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করছেন। তারা নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নৈতিক সমাজ গঠনে হাতপাখা প্রতীকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নারী ভোটারদের মধ্যে এ প্রচারণা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
প্রচারণাকালে নারী কর্মীরা বলেন, “নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় হাতপাখাই সবচেয়ে যোগ্য প্রতীক। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে এ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।”
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে হাতপাখার পক্ষে জনসমর্থন দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হাতপাখার বিজয়কে ত্বরান্বিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।