রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন

তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার ঐতিহাসিক অভিনন্দন

  • Update Time : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলো ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় এই অভিনন্দন জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলো থেকেও এই বার্তাটি প্রকাশিত হয়েছে, যা মুহূর্তেই দেশ-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

প্রফেসর ইউনূস তাঁর বার্তায় এই বিজয়কে কেবল একটি দলের জয় হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় বলেন, আপনার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই রায় প্রমাণ করে, দেশের মানুষ একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

অভিনন্দন বার্তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান। প্রফেসর ইউনূস অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পিতা ও মাতার সেই মহান আদর্শ ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার তারেক রহমানের আগামী দিনের পথচলাকে আলোকিত করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

প্রফেসর ইউনূস কেবল অভিনন্দন জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং নতুন সরকারের সামনে থাকা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই এবং শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়া। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলে মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন।

অভিনন্দন বার্তায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফুটে উঠেছে, তা হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে তারেক রহমানের গঠনমূলক ভূমিকা। প্রফেসর ইউনূস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে তারেক রহমানের ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি তারেক রহমানের প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন।

বার্তার শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা এক শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে হবু প্রধানমন্ত্রীর সকল উদ্যোগের সাফল্য কামনা করে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিএনপির ২০৯টি আসনে জয়লাভ করার পর থেকেই দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টার এই অভিনন্দন বার্তা সেই আমেজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাধারণ মানুষের মতে, বিদায়ী সরকার ও হবু সরকারের মধ্যে এই ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেবে। প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তাকে সেই আগামীর সরকারের প্রতি এক শক্তিশালী নৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category