শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
Title :
শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে মির্জা ফখরুল সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি থাকবে না: প্রধান উপদেষ্টা রংপুরের কাউনিয়ায় নির্বাচন সামনে রেখে যৌথ বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট জোরদার শুক্রবার ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি আইয়ুব বাচ্চু ও ববিতাসহ ১০ জন পাচ্ছেন একুশে পদক নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ সেনাপ্রধানের জবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪০ বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যুতে সাংগঠনিক সংকটে ফরিদগঞ্জ বিএনপি: চাঁদপুর-৪ আসন আমরা বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না: জামায়াত আমির লক্ষ্মীপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, আটক ২

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি থাকবে না: প্রধান উপদেষ্টা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ Time View

সরকারি সেবা ও কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি থাকবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকারি ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ফাইল আটকে থাকার সংস্কৃতি বন্ধ হয়। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট বা জিআইইউ এই প্রতিবেদনটি জমা দেয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের ৯ম সভায় জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সেই নির্দেশনার আলোকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে। প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

সেগুলো হলো বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি বা নাডা এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি বা এনএপিডি।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারি সার্ভিস বা সেবা এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি থাকবে না, এটি আমাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ্য একটাই, নাগরিক কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কাছে যাবে না; বরং সরকারের সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে।

প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভবন থাকলেও দক্ষ লোক নেই বা প্রশিক্ষণ পদ্ধতি মান্ধাতা আমলের। গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ না দিয়ে একে সমস্যা সমাধানমূলক হতে হবে।

তিনি কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে নম্বর ও ইনসেনটিভ বা উদ্দীপনা প্রদানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র‍্যাংকিং বা ক্রমবিন্যাস করারও প্রস্তাব দেন। প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যেন এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন, তেমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এই ধরনের মূল্যায়ন এটিই প্রথম। তাই মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণে হাতে-কলমে শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং ও স্টিয়ারিং কমিটির মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধিতে পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সুপারিশমালা বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়বে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়েরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category