জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লব ছিল একটি গণবিদ্রোহ, যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও দুর্নীতিগ্রস্ত ও বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।
রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে খুনি হাসিনা গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনসহ পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির মতো সংস্থাকে এ অপকর্মে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এসব প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। তবে হাজার হাজার খুনি ও অপরাধীর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া এবং সেখান থেকে নিরাপদে দেশান্তরী হওয়ার ঘটনায় জনসমাজে সশস্ত্র বাহিনীর অমর্যাদা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা দেওয়া হলেও সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।’
ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিগত শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। হাসিনা ও তার মদদপুষ্টরা এ অর্থ সরিয়ে নিয়েছে। এনসিপি সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জড়িতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে একটি ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর অধীনে আনা হবে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম মূলত ভারতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো। দিল্লির ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়া হয়েছিল। বিএসএফ শত শত বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করলেও হাসিনা সরকার চুপ ছিল।’
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এনসিপি ক্ষমতায় এলে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বাড়াতে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খাতকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বাহিনী পুনর্গঠন করা হবে। ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সক্ষম সব তরুণ-তরুণীর জন্য বাধ্যতামূলক মিলিটারি ট্রেনিং চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর দলের।
দ্রব্যমূল্য ও পুলিশ বাহিনী প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। পুলিশ বাহিনীকে আর কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করতে দেওয়া হবে না। গত ১৫ বছর যেসব পুলিশ সদস্য হত্যা, জুলুম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এনসিপির মূল লক্ষ্য।