দিনাজপুরের বিরামপুরে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ভোট দেওয়ার উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর পর দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার বিকেলে বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় তারেক রহমান তার নানা বাড়ির স্মৃতিচারণা করেন।
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, এ মঞ্চের পাশে জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা বসে আছেন। তাদের স্বজনরা দেশের মানুষের অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি ঘোষণা করেন, দিনাজপুরের লিচু ও আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। এ জেলার চালকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। উত্তরাঞ্চলের পানির অভাব মেটাতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করেন তিনি।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী কী করবে, তার একটি রূপরেখা দেন তারেক রহমান।
তিনি জানান, প্রতিটি গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা সরকার বহন করবে।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের পরিচয় ধর্ম বা জাত দিয়ে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে হবে।” তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা করে বলেন, বাংলাদেশই তার প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
জনসভা শেষে তিনি মঞ্চে উপস্থিত দিনাজপুরের ধানের শীষের প্রার্থীদের জনগণের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দেন এবং আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ডাক দেন।