বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনিও একজন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। শনিবার সকালে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তাঁর যে ভাই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, বর্তমান বাংলাদেশের এই চিত্র দেখলে তিনি হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতেন না দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মায়েরা এখনো ঘরের ভেতর কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নন। কর্মক্ষেত্রেও তাঁদের নিরাপত্তা নেই। মানুষ এখন চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভয়ে অস্থির সময় পার করছেন। দুর্নীতি সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। এই বাংলাদেশ সাধারণ মানুষ কখনোই চায়নি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি বৈষম্যহীন ও ভীতিহীন দেশ চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মামলাবাজি আর চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গত দেড় দশকে দেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই লুটপাট মুক্তিযোদ্ধাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের চিত্র হতে পারে না।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে তিনি ‘আজাদি বনাম গোলামি’ বা মুক্তির সাথে পরাধীনতার লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, এই নির্বাচন হবে পচা রাজনীতির চরিত্র বদলে দেওয়ার একটি বড় সুযোগ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মেধার ভিত্তিতে একজন শ্রমিকের সন্তানও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে তাঁরা জনগণের আমানতের পাহারাদার হতে চান, মালিক হতে চান না। তিনি জুলাই ও আগস্টের গণআন্দোলনে শহিদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও ওসমান হাদীদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং একটি নতুন সূর্যোদয়ের বাংলাদেশ গড়তে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।