শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
Title :
আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়: কেপ ভার্দে কোচ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে: বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর ফতোয়ার জন্য এখন আর মাদ্রাসায় যেতে হয় না, সংসদেই দেওয়া হয়: জামায়াতের এমপি হাম উপসর্গ আরও ৬ মৃত্যু ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে কুপিয়ে হত্যা বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা শুরু ফ্রান্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী’র সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থগিত: প্রবাসী মহলে ব্যাপক আলোচনা চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি আমাদেরও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে: মাহদী আমিন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দুই দিন বন্ধ থাকবে বিপণিবিতান শপিং মল

  • Update Time : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৫ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের বিরতি আসছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটের প্রাক্কালে জননিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে দেশজুড়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখন সাধারণ মানুষের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। শনিবার এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের সব দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিপণিবিতান পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকবে।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন এমনিতেই সরকারি ছুটি থাকে। তবে ভোটাররা যাতে আগের দিন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারেন এবং ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন থাকে, সে লক্ষ্যে ১১ ফেব্রুয়ারিও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক যেন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেন, সেজন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর ফলে শিল্প খাতের শ্রমিকরা কার্যত টানা তিন দিনের ছুটি ভোগ করবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চলের বিশেষ ছুটি, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার নির্বাচনের আগের দিনের সাধারণ ছুটি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচনের পাবলিক হলিডে বা সাধারণ ছুটি থাকবে। এটি শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এই নির্বাচন নিয়ে আসছে দীর্ঘ এক বিরতি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও সাপ্তাহিক ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সাধারণ ছুটি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে।

পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তাঁরা টানা চার দিনের একটি দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন। এই মেগা হলিডে বা দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানীর রাজপথ অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ঢাকার বাইরে অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক বিরতি নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। বিপণিবিতান ও দোকান বন্ধ থাকলে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাবেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হবে।

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক আগেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেই অনুযায়ী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব তফশিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ থাকবে। ফলে এটিএম বুথ বা স্বয়ংক্রিয় টাকা তোলার যন্ত্র এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি দেশের জন্য রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সমাজ একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। গণতন্ত্রের উৎসব সফল করতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এখন মূল লক্ষ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category