সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের পর খুব একটা অনুশীলনের সুযোগও পাননি টাইগাররা। দিন তিনেকের মধ্যে আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামতে হয়। তবে ঘরের মাঠে ফিরেই হারের বৃত্ত ভেঙেছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭৪ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে।
মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৯ ওভার ৪ বলে সব উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন তাওহিদ হৃদয়। এছাড়া ৪৬ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
জবাবে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৯ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় উদ্বোধনী জুটি ৫১ রান যোগ করে ক্যারিবিয়ানদের উড়ন্ত শুরু। ২৭ রান করা আলিক আথানজেকে লেগ-বিফোরের ফাঁদে ফেলে প্রথম আঘাত হানেন রিশাদ হোসেন। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পরই ক্যারিবিয়ানদের রানের লাগাম টেনে ধরেন বাংলাদেশ।
তৃতীয় ওভারে তিনে নামা কেসি কার্টি উইকেটে স্থির থাকলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২০তম ওভারে রিশাদের বলে স্লিপে সাইফ হাসানের হাতে ৩০ বলে ৯ রানে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। পরবর্তী ওভারে রিশাদ আরও দুই উইকেট নেন; ব্যান্ডন কিং ৬০ বলে ৪৪ রান করে আউট হন এবং শারেফান রাদারফোর্ডও ফিরেন।
২৪তম ওভারে রিশাদ রোস্টন চেজকে ৬ রানে আউট করে। এই পাঁচ উইকেটই রিশাদের ঝুলিতে যায়। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রথম ডানহাতি স্পিনার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট অর্জন করেছেন।
একশর রান পার হবার আগেই উইন্ডিজ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রোস্টন চেজ ও গুড়াকেশ মোতিরা কিছুটা চেষ্টা করলেও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
৩৯তম ওভারে রিশাদ মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে জেডন সিলসকে ক্যাচ দেন। এই উইকেটসহ ম্যাচে রিশাদ ৬ উইকেট নেন, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা এবং কোনো বাংলাদেশি স্পিনারেরও ওয়ানডেতে সেরা বোলিং ফিগার।
এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসের প্রথম ওভারেই ৭ রান তুলেছিল। তবে দ্বিতীয় ওভারেই লেগ-বিফোরে সাইফ হাসান ৬ বল খেলে ৩ রান করে আউট হন। পরের ওভারে সৌম্য সরকারও ৬ বল খেলে ৪ রান করে আউট হন।
৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় তৃতীয় উইকেটে ৭১ রান যোগ করেন। শান্ত ৩২ রান করে আউট হলে জুটি ভেঙে যায়।
শান্ত ফিরলেও হৃদয় ব্যক্তিগত ফিফটি অর্জন করেন। ৮৭ বল খেলে ৫১ রানের ইনিংসটি তার কার্যকরী ব্যাটিং হিসেবে ছিল। হৃদয়ের পর এক প্রান্ত ধরে রাখেন অঙ্কন, ৪৬ রান করে আউট হন।
অঙ্কনের আউট হওয়ার পর দুইশ রানের আশা জেগেছিল। তবে শেষদিকে রিশাদ হোসেন ঝড় তোলেন, ১৩ বল খেলে ২৬ রান যোগ করেন। এতে বাংলাদেশের মোট রান দুইশ ছাড়িয়ে যায়।
সবমিলিয়ে বাংলাদেশ ২০৭ রানের সংগ্রহ করে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৩৩ রানে আটকে রেখে ৭৪ রানের জয় নিশ্চিত করে।