ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসন পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের অবরোধ সকাল থেকে তেমন প্রভাব না ফেললেও হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা ফরিদপুর-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে তারা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করে।
এ সময় মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এতে দুইটি প্রধান মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রনি ব্যাপারী জানান, ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, হঠাৎ করে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ শুরু করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগীয় ও জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিপিএনসহ এক হাজারের বেশি সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
একই তথ্য নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি রোকিবুজ্জামান বলেন, সকাল পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শুরু করে। এতে ফের নতুন করে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, ভোর থেকে উপজেলা ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান করছে। জনদুর্ভোগ নিরসন ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের আসন পুনর্বিন্যাসের গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে গেজেট প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয়রা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত পাঁচ দিন তারা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখায় ঢাকা-খুলনা ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।