মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
Title :
রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল আকাশপথের জটিলতায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম চালান পিছিয়ে গেল দুদকের দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের রিট চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বিদায়ি সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাঙচুরের পরও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলছে শিশুদের টিকাদান প্রিজন ভ্যান থেকে ২৫ মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, সাময়িক বরখাস্ত ৫ পুলিশ সদস্য চীনের কাছেই অ*স্ত্র বিক্রির প্রস্তাব ট্রাম্পের দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ, বাড়ছে সিরিয়াল কিলারের আতঙ্ক ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে

নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে: সালাহউদ্দিন আহমেদ

  • Update Time : রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ Time View

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল পর্যায়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, “জাতির কাছে এমন কোনো নিদর্শন রেখে যেতে চাই না, যা দুদিন পর টিকবে না বা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।”

রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, “সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এগুলো একে অপরের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ নয়। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া, বিচারও সময়সীমায় বাঁধা যাবে না, তাতে অবিচার হবে। কিন্তু নির্বাচন অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে আলোচনা ও সমঝোতা জরুরি। “আমরা সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান বের করতে পারলে তাতে একমত হবো। প্রস্ততকৃত জুলাই সনদে কিছু কারিগরি ভুল ও বিভ্রান্তি রয়েছে, আমরা তা সংশোধন করব। তবে যেহেতু এটি একটি জাতীয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দলিল, তাই এটি নির্ভুল হওয়া বাঞ্ছনীয়। যে বিষয়গুলো আলোচিত হয়নি, সেগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। বিতর্ক যত কম হয় তত ভালো।”

সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে কয়েকটি দলের আপত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বলেছি, আইনি ভিত্তি নিয়ে আলোচনা হলে অংশ নেবো। সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কমিশন যে ড্রাফট দিয়েছে, তাতে আমরা লিখিত মতামত দিয়েছি। ভবিষ্যতে টিকবে না, এমন বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না—এমন দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধানের ওপর সনদকে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এর বাইরেও অনেক পথ আছে। চাইলে আপিল বিভাগের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অর্ডার বা স্পেশাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার আকারে এটির বৈধতা দেওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে যদি আদালতে কেউ চ্যালেঞ্জ করে, তখন বলা যাবে আমরা বিচার বিভাগের মতামত নিয়েছিলাম।”

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, “স্পেশাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নিলেন, আমরা আপত্তি করলাম না। ঐকমত্য কমিশন থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো নাগরিক এটি চ্যালেঞ্জ করলে তা আপনার বৈশ্বিক সুনামের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। আমরা নানা পরামর্শ দিয়েছি, এখন সিদ্ধান্ত আপনার।”

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক হয়। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। কমিশনের মতে, জুলাই সনদ কেবল রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ। এর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। তবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সর্বাত্মক রাজনৈতিক ঐকমত্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category