বরগুনায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় আওয়ামীপন্থি ১২ আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালতে পাঠানো আইনজীবীরা হলেন—বরগুনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুবুল বারী আসলাম, মো. মজিবর রহমান, বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির, মো. নুরুল ইসলাম, এম. মজিবুল হক কিসলু, হুমায়ুন কবির পল্টু, জুনায়েদ হোসেন জুয়েল, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইমরান হোসাইন, সাইমুল ইসলাম রাব্বি, আবদুর রহমান জুয়েল ও আমিরুল ইসলাম মিলন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলহাজ্ব মো. নুরুল আমীন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলামের ছেলে এসএম নঈমুল ইসলাম ২০২৩ সালের ১৭ মার্চের ঘটনা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল বরগুনা থানায় মামলা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন সকাল ১১টার দিকে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবীর, সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার টুকু ও শওকত হাসানুর রহমান রিমনের নেতৃত্বে ১৫৮ জন নেতাকর্মী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ মামলার পর ১২ আসামি চলতি বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। ২১ জুলাই তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। পরবর্তীতে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ২৪ জুলাই পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত নথি তলব করে শুনানির দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুল মোতালেব মিয়া ও মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা আবারও জামিনের আবেদন করবো। আসামিরা নিয়মিত কোর্টে কর্মরত। পালানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া মামলাটি দুই বছর আগের রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে করা হয়েছে। অনেক আসামি আওয়ামী লীগের সদস্যও নন।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আলহাজ্ব মো. নুরুল আমীন বলেন, “মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা হয়েছে। এটি জামিনযোগ্য।”