ফিলিস্তিনের যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ‘মানবিক সহায়তা’ প্রবেশ বিষয়ক একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে।শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) পরিষদে ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া এতে ভোট দানে বিরত ছিল।
তবে বিবিসির প্রতিবেদনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান সহায়তা বিতরণে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে রাশিয়া প্রস্তাবটির ভাষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আরব আমিরাতও প্রস্তাবের ভাষা নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে। এই দুই সদস্য রাষ্ট্রের মতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কথা প্রস্তাবে বলা হলেও, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভাষায় কাটছাট হয়।
তবে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বলেছিলেন, ‘আপনাদের এ বিষয়ে অবগত করতে চাই যে, গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও ও অন্যান্যদের সঙ্গে, আমরা সমর্থনযোগ্য একটি প্রস্তাব নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা এর পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত।’
নিরাপত্তা পরিষদে গত সপ্তাহে (১৫ ডিসেম্বর) একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রস্তাবে গাজা উপত্যকায় সংঘাত বন্ধ ও মানবিক ত্রাণ সহায়তার অব্যাহত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অবিলম্বে ইসরাইলের সব জিম্মিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
খসড়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘গাজায় অবিলম্বে সব হামলা বন্ধ করতে হবে, বন্দিদের বিনা শর্তে মুক্তি দিতে হবে এবং গাজার সাধারণ মানুষের কাছে বিপুল ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘাতের সব পক্ষকে অবশ্যই তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে তা নিশ্চিত করার কথাও খসড়ায় বলা হয়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রস্তাবটি এমন সময় পাস হয়েছে, যখন ইসরাইলের আগ্রাসনে গত দুই দিনে ৩৯০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৭৩৪ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে পাস হওয়া প্রস্তাবে, গাজায় নিরাপদে ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ করে দিতে সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবে, ‘লড়াই বন্ধের আহ্বান’—কথাটি এড়িয়ে ‘লড়াই বন্ধে উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরির’ আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটাভুটি স্থগিত করা হয়। এরপর আরও অন্তত ছয়বার পিছিয়েছে ভোটাভুটি। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে তোলা একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে আটকে যায়।
এদিকে শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন ৭৭তম দিনে গড়িয়েছে। উপত্যকাজুড়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। হামলায় নতুন করে আরও হতাহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।