ভিসামুক্ত সেনজেন জোনে গতকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে ইউরোপের আরও দুই দেশ বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া। এখন থেকে আকাশপথে ও সমুদ্রপথে সেনজেনভুক্ত বাকি দেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই দেশের নাগরিকদের পাসপোর্টও বহন করতে হবে না।
রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া যোগদানের ফলে এখন সেনজেনভুক্ত দেশের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯-এ।
তবে স্থলপথে এই সুবিধা এখনো পাবে না এই দুই দেশ। আশ্রয়প্রার্থীদের সম্ভাব্য আগমন নিয়ে অস্ট্রিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। দেশটির ভেটোর কারণেই স্থলপথে এই সুবিধা বাতিল করা হয়। রোমানিয়ার সরকার জানিয়েছে, ১৭টি বিমানবন্দর ও ৪টি সমুদ্রবন্দরের জন্য সেনজেন নীতি প্রযোজ্য হবে। সেখানে সীমান্ত পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো হবে। তারা যাত্রীদের সহায়তা করবেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে রোমানিয়া ছেড়ে যেতে চায়- এমন বিদেশি নাগরিক শনাক্তে কাজ করবেন। মানবপাচার রোধে মাঝে মধ্যে বন্দরগুলোতে যাত্রীদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা হবে।
রোমানিয়ার বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষক স্টেফান পোপেস্কুর মতে, সেনজেনে যুক্ত হওয়া বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্গত মর্যাদার প্রশ্নও। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘একজন রোমানিয়ানকে এতদিন অন্য ইউরোপীয় নাগরিকদের থেকে আলাদা পথে হাঁটতে হয়েছিল। তারা এতদিন ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হতো। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।’
ফ্রান্সে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী বুলগেরিয়ার নাগরিক ইভান পেট্রোভ তার দেশ সেনজেনে প্রবেশ করায় উচ্ছ্বসিত। কারণ তিনি এখন ভ্রমণে সময় বাঁচাতে সক্ষম হবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রধান ভন ডার লিয়েন শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি দুই দেশের জন্যই দুর্দান্ত সাফল্য। সেনজেন এলাকার জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি বিশ্বের অবাধ চলাচলের সবচেয়ে বড় এলাকা।’
ভন ডার লিয়েন বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘একসঙ্গে আমরা সব নাগরিকের জন্য একটি শক্তিশালী ও আরও ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ গড়ছি।’ সূত্র: আরব নিউজ