তুরস্ক একমাত্র ইহুদিবিদ্বেষী দেশ নয়। তুরস্ক ছাড়াও অনেক দেশ আছে যারা ইসরাইলকে সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।সোমবার (২০ নভেম্বর) রাজধানী আঙ্কারায় কেবিনেট মিটিং শেষে এসব কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
এরদোয়ান ফিলিস্তিনের গাজায় চালানো ইসরাইলি আগ্রাসনকে মধ্যযুগীয় ক্রুসেড এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নৃশংস হামলার অনুরূপ বলে দাবি করেন। ইসরাইলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তুরস্কের ইতিহাসে ইসরাইলের মতো এমন কলঙ্ক নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন হাসপাতালে ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিকবার হামলা করছে। আধুনিক সব ধরনের যুদ্ধসরঞ্জাম ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর অমানবিক হামলা চালাচ্ছে। আর এসব হামলার সমর্থন জানাচ্ছে বিভিন্ন পশ্চিমা রাষ্ট্র। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ড এবং এতে সমর্থনের জন্য তাদের মানবতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’
গত ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইল। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বোমা হামলায় গাজার ১৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি শিশু। আর নারীর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়াও চলমান এই সংঘাতে ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ইসরাইলের অমানবিক হত্যাকাণ্ডে পশ্চিমা দেশগুলো নীরবে সমর্থন এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে শুরু থেকেই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়ে আসছে তুরস্ক। ইসরাইলের বর্বর ও নির্বিচার হামলার নিন্দা জানিয়ে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান।
এমনকি গত শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) জার্মানি সফরে যান এরদোয়ান। সেখানে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য জার্মানিকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানালে তা নাকচ করে দেন জার্মান নেতা। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেই বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান দুজন।
এমনকি জার্মানি সফর শেষে শনিবার (১৮ নভেম্বর) এরদোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসরাইল গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ করেছে, যুদ্ধবিরতি হলে সেসব ঠিক করার জন্য আমাদের যা যা করার তা করব।’