মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একটি বেসরকারি কোম্পানি আউটসোর্সিং চালুর অনুমতি পায়। আউটসোর্সিং চালুর সর্বশেষ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। কারন কোম্পানি নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব, নিযুক্ত কোম্পানির অনভিজ্ঞতা এবং অদক্ষতার কারণে আউটসোর্সিং চালুর শুরুতেই এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, সরকার পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিংয়ের জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি। সরকার অবশ্য কোম্পানিকে অনেক আগে আউটসোর্সিং কাজ শুরুর কার্যাদেশ দিয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ শুরু করতে না পারায় পহেলা ডিসেম্বর সর্বশেষ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এই সময় অতিবাহিত হলেও কাজ শুরু করেনি।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এক্সপার্ট সার্ভিসেস লিমিটেড নামের কোম্পানি পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং কাজে আবেদন করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও এমআরপি বিভাগ একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
এতে দেখা যায়, তারা আরও কয়েকটি নির্বাচিত মিশনে আউটসোর্সিং কাজ শুরু করতে চায়। জানা গেছে, কোম্পানিটি বাংলাদেশের কাতার, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ভারত (নয়াদিল্লি, আগরতলা, গোয়াহাটি এবং মুম্বাই) মিশনে আউটসোর্সিং কাজ পেতে আগ্রহী। তারা এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের দ্রুত অনুমোদন কামনা করেছে।
কোম্পানির প্রস্তাব এবং পোর্টফোলিওতে দেখা যায়, এক্সপার্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং কাজের অভিজ্ঞতা নেই। এই কোম্পানি গার্মেন্টস, এগ্রো, ডেইরি এবং হসপিটালিটি শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় কনসুলার তথা পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিং কাজ পেতে আগ্রহী। নিজেদের অভিজ্ঞতা না থাকায় কোম্পানিটি বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল নামের অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। নিজেদের অভিজ্ঞতা না থাকায় অন্য কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করার বিষয়টি জানায় সূত্র।
বাংলাদেশ সরকার যেসব কারণে পাসপোর্ট ও ভিসা আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার অন্যতম জাতীয় নিরাপত্তার উন্নয়ন, পরিচয় নিয়ে প্রতারণা কমানো, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ভোক্তা সেবা জোরদার, ইউজার পে-সার্ভিস প্রভৃতি।
আউটসোর্সিংয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে যেসব সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে সেগুলো হলো, পাসপোর্ট ভিসা আউটসোর্সিং সার্ভিস, স্পর্শকাতর এবং জটিল নয় এমন কনসুলার সার্ভিস, যাচাই ও সত্যায়ন সেবা, নাগরিকদের ফ্রন্ট এবং অ্যান্ড সার্ভিস, কল সেন্টার সার্ভিস, হেল্পলাইন, বাংলাভাষী স্টাফদের সহায়তা, ভিআইপি ও সিআইপিদের সেবাদানে কর্মী নিয়োগ, পর্যটন ও বাণিজ্য কর্নার স্থাপন, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনে সহায়তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্য যে কোনো সহায়তা প্রদান প্রভৃতি।